রবীন বসুর কবিতা
অনভিপ্রেত অসহায় ভয়
দৃষ্টিকোণ বরাবর শুয়ে আছে পুঁইলতা মেঘ
আকাশে আশ্বিন শুভ্র মাঠে মাঠে কাশ
তবুও হৃদয় ভেঙে দগ্ধ দাগ
মধ্যরাতে জ্বলে ওঠে ভয়ঙ্কর গোপন অগ্নি
শ্বাসরুদ্ধ ষড়যন্ত্র আর রাষ্ট্রের হিংসা
মেঠো পথ ধরে লাঞ্ছনা বাজরা ক্ষেতের দিকে যায়।
এই অমিত আলো, নিভে আসা দিন
ছায়াঢাকা মেঘপ্রান্তর পার হয়ে যে মেয়ে
হেঁটে গেল মৃত্যু সজ্জায়,তার গায়ে
বিকৃত লালসার রস। ভাঙা মেরুদণ্ড আর
কাঁটা জিভ শুধু জবানবন্দি দিয়ে যায়
মূক বধির প্রেতাত্মার কাছে।
দৃষ্টিকোণ বরাবর শুয়ে আছে নিশ্চিত অনভিপ্রেত
অসহায় এক ভয়, তাড়িত উৎকণ্ঠা নিয়ে সন্ত্রস্ত
অসম্মান, ম্লান আলো বিকেলের দিকে ছুটে গেল…
অন্ধকার গাঢ় হয়
তোমার খড়ের চালে আজ দেখি পুঁইলতা
বাড়ে ধীরে। বাড়ে মেয়ে গঙ্গামণির স্তন
বুনো ঘাস বাড়ে কিছু ক্ষেতে,
এ ঘাস নিড়ান না যায়
তাই জন্তু ঢুকে পড়ে কিছু।
তোমাকে দেখায় খুব চিন্তান্বিত মুখ।
অন্ধকারে বাড়ি মারো, হয়তো কোন গুপ্ত ওত
ওইখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ওই যে দাবার অন্ধকারে।
না হলে সামনে বাজরা ক্ষেত
হায়নার দল ঢুকে আছে সেইখানে
লোহামণি সোরেনের চোখ আঁতিপাঁতি খোঁজে।
এ আঁধারে শ্বাপদেরা চুপ, নিঃশব্দে থাবা মারে
কুমারীর শস্যক্ষেত হয় লণ্ডভণ্ড
লালসার লালা চেটে নেয় গঙ্গামণি সোরেনের দেহ।
সংবাদ মাধ্যম নেই, সংকোচ লজ্জায় মুখ ঢাকে।
উৎসব শেষ হলে অন্ধকার গাঢ় হয় শুধু।
হাতছানি ভোর
কেউ কি ইশারা দিল? হাতছানি ভোর
কাউকে দেখিনি আমি, কেউ তো ডাকেনি
যদিও স্বপ্নের ঘোর বিষাদ মাখেনি
তবু কেন মনে হয় ওই মুখ তোর।
ওই যে আলোক রেখা, ভোরের প্রকৃতি
কী মায়া জাদু যে জাগে, রহস্য প্রসার
দিন হাঁটে আলো মেখে, দিনান্ত অপার
সংগোপন গভীরতায় ফেলে আসা স্মৃতি।
আমাকে ডাকছে কেউ সুদূরে অবুঝ
ওই যে ইশারা এল, আগ্রহ ইঙ্গিত
সেখানে বাজছে যেন অপূর্ব সংগীত
স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামের সবুজ।
ইশারা ইঙ্গিত নিয়ে জীবন ছুটেছে
তোর মুখে আলো দেখি সহজে ফুটেছে।