বাসব রায়ের কবিতা
নিঃশব্দ ক্ষরণ
আমার মৃত্যুর পরেই এসো –
যখন শাদা মার্কিনে আমি আবৃত
যখন সোহা- চন্দনে চর্চিত আমি অদ্ভুত সুন্দর –
আমার শান্ত মুখে হয়তো একটু হাসির টুকরো বেদনা মাখা ;
ঠিক তখনই এসো ।
আমার শ্বাসে যখন নরম শাদা তুলো
আমার সৌন্দর্য যখন অবাক করবে সবাইকে
যখন কেউ হয়তো চোখের জলে কিছুটা হলেও ভাসবে
আমার স্পন্দন যখন সম্পূর্ণ ওপারের ডাকে স্থবির –
তখনই এসো কিন্তু !
আমি অপেক্ষায় থেকে যাব অনেকটা সময়
নানা অছিলায়
তোমার আমার সেটাই প্রথম আর সেটাই হবে শেষ অভিসার –
আমার বিশ্বাস
সেদিন আমাকে ভালো না বেসে তোমার আর কোন উপায়ই থাকবে না ।
আমার প্রতি তোমার নির্মম অবহেলা
আমাকে প্রতিপদে লাঞ্ছিত করা , আমাকে প্রচণ্ড ঘৃণা –
এসব তোমার মনে আসবেই আসবে , আমি নিশ্চিত ৷
তোমার নিজেকে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও
অপরাধী মনে হবে ।
আর দুচোখে ঝরবে অনেক কষ্টের জল
আমার নিষ্প্রাণ দেহের ওপর আছড়ে পড়তে
ইচ্ছে করবে তোমার শুধু একবার মাত্র একটিবার –
ছুঁয়ে দেখবার অপূর্ণ সাধ তোমার বুক ফেটে
বেরিয়ে আসতে ব্যাকুল হয়ে উঠবে ।
নিষ্পলক আমি তোমাকে আমার বুকে
রক্তে মাংসে বিস্তীর্ণ অনুভবের জালে বেঁধে ফেলব ।
আমার অভিমান , আমার বিরহের প্রত্যেকটি কষ্ট ঠিক তোমাকেই বিঁধবে
আমি হাসব , আমি দুষ্টু মন
তোমাকে সেদিন সত্যিই আমার করে পাবে ।
আমার চিতার শিখায় তোমার মুখে
সব হারানোর ব্যথা দাউ দাউ করে উঠবে জ্বলে
আমার শ্মশানের ধোঁয়ায় তুমি আচ্ছন্ন হবে
হবে সম্পূর্ণরূপে একাকী —-
সেদিন তোমার সবটুকু প্রেম
সবটুকু ভালোবাসা হবে শুধুই আমারই জন্যে-
ঠিক সেই সময়েই এসো ।
তোমার গরম নিঃশ্বাসে আমি পাব
অনুরাগ জ্যৈষ্ঠের গায়ে একটি কৃষ্ণচূড়া
তুমি এসো কিন্তু , অবশ্যই এসো ।
বদলানো সময়
আমরা যে আকাশ দেখে এতোটা বয়স পেরিয়ে এসেছি এ আকাশ সেই আকাশ নয়
মায়বী নীলের ওপর এখন ধূসর রঙের জট
বকশাদা মেঘগুলো চোখেই পড়ে না আর ৷
কাশফুলের স্নিগ্ধ হাসিটুকু আর নেই
স্রোতস্বিনী আজ মরুর বালুতে পড়েছে ঢাকা
শরত এলো কী গেলো উপলব্ধির বাইরে
বসন্ত , সে-তো রঙ্ মাখা সঙ্ এক সময়ের নিদারুণ শিকার –
ঝড়ের পরে আম কুড়ানো সুখের খোঁজ মিলে না কোথাও ঘুরেও
পুঁটি বা ডানকাটা মাছেদের অপূর্ব নৃত্য চোখে পড়ে না কতদিন ৷
প্রেমিক চাঁদের কলঙ্কে যে মুগ্ধতা ছিলো
তা কী আর আছে আজও –
বেঁচে থাকা দেহগুলো কবে যে কখন ফসিল হয়েছে জানা নেই কিছু তার – ৷
অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস
ভালোবাসা কিনেও খাওয়া যায়
একটা সময় ওটা অন্তরের বিষয় ছিলো
সময়ের সাথে সাথে প্রক্রিয়ার তফাৎ এখন অনেক ——
অন্তর থেকে বের হয়ে ভালোবাসা এখন বস্তুবাচক শব্দের রূপ নিয়েছে ৷
প্রকাশ্যে বা গোপনে বাণিজ্যিক চাষের জমি এখন ভালোবাসার বিস্তীর্ণ মাঠ
দৃষ্টির মায়াবী আকর্ষণ দরকার পড়ে না
কোমল ঠোঁটের মৃদু কাঁপুনি প্রাগৈতিহাসিক অধ্যায় মাত্র
হাতের স্পর্শে কবিতা নেই , আছে ভাইরাল রতিক্রিয়া…!
একমুঠো ভালোবাসার বাজারদর এতোটাই কম যে , প্রেমিক লজ্জিত হয় –
বিনিদ্র রাতজাগা ভালোবাসারা এখন যাদুঘরে
চিঠির পরে চিঠি আর নেই
গোলাপের পাঁপড়ি দলিত মথিত
অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস বলে আর হয় না কিছুই ৷