নবনীতা চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
রেলশহরের কোলাজ
১
ঘুমের মধ্যে ছেড়ে চলে যাচ্ছে ট্রেন…
সরে সরে যাচ্ছে আকাশের চাঁদ
সবুজ জাফরির লাল রেল কোয়ার্টার,
রেলশহরের পাঁজরের দুপাশে সার
দেওয়া মহীরুহের ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস,
নিঝুম রাতে পথে শুয়ে থাকা
নিহত সেই নিরীহ কলবয়…
এইমাত্র আকাশের চাঁদটাকে পকেটে ভরে
যে হাঁটা দিল দীর্ঘ ছায়া ফেলে…
২
অথচ খেলার মাঠটাকে ঘিরেই
ঘুরে মরে যত সাইকেল|
কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, ম্যাথস, দর্শন
প্রতিটি কোচিং ভরে যায়
এক অন্য পাঠশালার শিক্ষায়…
প্রতিদিন বিকেল হলে এক
অজানা বাতাস দক্ষিণ সমুদ্র থেকে
ছুটে এসে হা-হা করে হেসে ওঠে|
হাওয়া জানে কিভাবে ছুঁয়ে
যেতে হয় অন্তর ও বাহির|
৩
আচমকা বৃষ্টি এলে রাধাচূড়া…
আচমকা বৃষ্টি এলে কৃষ্ণচূড়া…
আচমকা বৃষ্টিতে জারুল ও ঘোড়ানিম
সবাই জানে জলে ভিজেও কিভাবে
ধুয়ে মুছে সাফ করা যায় পাতার সবুজ…
কদম এসব কিছুই বোঝে নি।
প্রতিদিন বৃষ্টি এলে জল ভেঙে
শ্রীকৃষ্ণ তাই রাধার পাশে
এক ভিজে যাওয়া কদমগাছের নীচে।
৪
ফিনকি দিয়ে ছুটছে যে রক্তধারা
উষ্ণতা তাকে ছেড়ে গেছে কবেই|
নির্মোহ চলে যাওয়ার উপেক্ষার
জালির ফাঁকে অন্তহীন অপেক্ষা…
এইসব উপেক্ষা ও অপেক্ষার মধ্যবর্তী
লোহার রেলওয়ে ব্রিজ ধরে প্রতিরাতে
ঝমঝম শব্দে ছুটে যায়
দূরপাল্লার এক রহস্যময় ট্রেন।