জেবুন্নেছা জোৎস্নার কবিতা
যাযাবর
হয়তো কোথাও দেখেছি তোমায়
হয়তো বা কোথাও না;
হয়তো এসেছিলে স্বপ্নে আমার
এঁকে গেলে তাই আলপনা।
আমি আজন্ম অপেক্ষার চরাচর
তুমি বিপ্লবে ফেরারী বৈরাগী;
সংলাপের শ্বাশ্বত কথপোকথনে
এ জীবন তোমার নামে বাজী।
নোঙরে তোমার প্রণয়ের জলচ্ছবি
প্রস্থানে জেটির বিহগলের যন্ত্রণা,
তামাটে ত্বকে চোরা ঢেউ’য়ের শ্লোকে
প্রতিশ্রুত পাড়ভাঙ্গা স্মৃতির মন্ত্রণা।
একটি টিঁপের আশায় সাঁই
নিত্য ধাঁধার এ তিতাস পারাপার;
সরাই খানার অতিথি তুমি,
দিলে না তো ঠিকানা, ওহে যাযাবর!
ডায়াটম-প্রেম
জলের দর্পণে আলোর ভগ্নাংশে
যেন সে হুরীর দ্যুতি—
লোহিত-লাল প্লেকটোনিক শিল্পে
জীবাশ্ম-জিঘাংসার এক অজ্ঞাত পুঁথি—
অছ্যুৎ’কে অবজ্ঞা ভরে,
অঙ্গে মাঙ্গি আমি তাহার উচ্ছিষ্ট।
সৎকারে নেভে না দাহ—
জলাজ্ঞলীতে দ্বিধান্বিত ইন্দ্রিয় ষষ্ঠ।
সে কি দুর্গম স্রোতের সাওয়ারী?
না কি বদ্ধতায় কোটরাগত
মৎস্যে রঞ্জিত ডায়াটম প্রেম:
বাদামী দুপুরের অতন্দ্র প্রহরী।
অর্ধেক মানুষ
মনুষ্যহীনতার বধ্যভূমিতে
থমকে আছে পৃথিবীর সৌন্দর্য ।
বিষাক্ত ইকোলজীর বুঁদ-বুঁদে ভাসমান কদর্যতায়-
হাস-ফাঁস করে চন্দ্র- সূর্য, মেঘ- বৃষ্টি’র সুষমা
প্রিজমের সূচাগ্র প্রতিবিম্বে প্রতিফলিত
পোশাকের আড়ালে শ্বাপদ প্রজাতির
বিবর্তিত অর্ধেক মানুষ -।
আর এই অর্ধেক মানুষই যথেষ্ট
শান্তি আর সভ্যতা’র সুরক্ষিত বলয়
ধ্বংস করে এক অ-বসবাস যোগ্য
বিবর্ণ পৃথিবী গড়তে।