লুৎফুন নাহারের কবিতা
উপহাসকেই উপহার জেনেছি
তোমাদের উপহাসকেই আমি উপহার জেনেছি
তাচ্ছিল্যকে মেনেছি মাথার তাজ
যতোবার মুখ টিপে হেসেছো আমার মুখের উপর
ততোবার বুক ভরে ভালোবেসেছি, সত্য এটাই।
আমাদের দূরত্বের দেউড়ি প্রশস্ত হয়েছে যতো
ততোই প্রচ্ছন্ন হয়েছে শ্যাডো, প্রখর রোদে মেলে দিয়ে সদ্য-
সংগৃহীত মায়াশস্য, শোকের তাওয়ায় স্যাঁকা হয় প্রেম
এতোদিন পর, সে আমি তোমাদের কাছেই শিখলেম।
সময়ের সামিয়ানা ফোঁড়ে চাঁদ গলে জোছনা ঝরে তবুও তো
স্ফুলিঙ্গ ভেবে তারে, পতঙ্গ মন ওড়ে গিয়ে পোড়াতে চায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
ধীর ধীরে সরে যায় আয়ুষ্কাল, দিনলিপিতে লেখা হয় ভষ্মের বিবরণ
পূবালী বাতাসে ভাসে মৃত্যুর ঘ্রাণ, যেনো এটাই ছিলো ইহ জন্মের আহ্বান।
মনের গ্যালারি
কখনও কখনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে থাকি নিতান্তই একা, বিভ্রান্ত।
কিংবা, মাথা থেকে মস্তিস্ক ছিন্ন করে রেখে দিই কোলের উপর
অনেক কিছুই দেখেও দেখি না, যেনো আমি অন্ধ!
বসন্তরোদে মেলে দিয়ে হাত
চামড়ার ভাঁজে-ভাঁজে তবু দেখি বিরুদ্ধ সময়ের ইতিহাস
পাতাঝরা গাছের মতোই অপেক্ষায় থাকি
প্রত্যাশা-ফুল ফুটবার—
ক্ষণকালীন জীবনে-ফুটন্ত ম্যাগনোলিয়া, চেরীব্লসমস
চিয়ার্স করে ঝরে যায় হালকা বাতাসে
কচি পাতার আবরণে নিজেকে সাজাতে।
ড্যাফোডিল, টিউলিপ ও হায়াসিন্থ মাঠের মতো
শূন্যতা নিয়ে আরেক বসন্তের অপেক্ষারত
মন আমার জানে না, আর কোনো বর্ণিল বসন্ত
এসে পাবে কি সে সুযোগ, তার চোখের বায়োস্কোপ-
মনের গ্যালারি রঙে-রঙে আরেকবার সাজানোর?
ব্লাক, সাদা ও ব্রাউন
বসন্তেও এখানে ফ্রস্ট জমে ঘাসে
পা ফেললেই বোঝা যায় তার ক্রিস্পিনেস
যেনো ফ্রিজার থেকে বের হয়ে আসা সাদা সবুজ।
করোনার কবল সয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকে
ফিনান হাইওয়ে, সারি-সারি বাড়ি’র মাঝে;
থেকে-থেকেই দু’একটা বাস কিংবা গাড়ি-
দ্রুত থেকে দ্রুত চলে যায় নিথর নিরবতা চিরে।
অতঃপর এক সুনসান শূন্যতা নিয়ে
ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে শীতার্ত এই টিলবাড়ি টাউন
যেখানে সারি-সারি বাড়িগুলোর ভেতরে
বসবাসরত মানুষের রং- ব্লাক, সাদা ও ব্রাউন।