সুধাংশুরঞ্জন সাহার কবিতা

সুধাংশুরঞ্জন সাহার কবিতা

পাঠক্রম


রাত্তির সেলাই করতে করতে
কত মনখারাপ চোখের সমুদ্রে ভেসেছে !
কত প্রেম সাঁতার কাটতে গিয়ে
চিরতরে হারিয়ে গেছে,
চাল-ডাল-শাকপাতাহীন খিদের ফুটন্ত জলে !
কেউ তার হিসেব রাখে না ।

জানি, খরার এই পাঠক্রম সবার নয় ।

শস্যক্ষেত ঘিরে বেড়ে ওঠা প্রত্যাশার
আস্তিনে সকাল দুপুর বিকেল
হাত ধরাধরি করে হাঁটে ।
স্বপ্নের উড়ালে সংকোচন, পতনের
কোন স্থান নেই ।
আছে শুধু উড়াল আর উড়াল ।


জন্ম মৃত্যু নিয়ে যতোই বিরোধ,
বিলাপ থাক না কেন,
প্রতিটি জন্মের সরলরেখার শেষে আছে মৃত্যু ।
এ এক বৃত্তের হিমস্রোত ।
বেঁচে থাকতে চাই উষ্ণতা।
চাই ভালোবাসা, প্রেমের উত্তাপ ।
নির্ভেজাল নিবিড়তা ।


আমার দু’চোখের ভিজে অন্ধকারে
(কবি শঙ্খ ঘোষ স্মরণে)

না। বিঞ্জাপনে মুখ ঢেকে যায়নি তাঁর ।
তিনি জানতেন, গাঢ়ভাবে জানতেন —
চোখ তুললেই অভিনয় নয়।
হাত তুললেই থিয়েটার নয়।
কবিতা আওড়ালেই ছন্দের বারান্দা নয়।

তাই, মুখে, ঠোঁটেে ছিল তাঁর স্মিতহাসি।
তিনি কবি শঙ্খ ঘোষ, অন্য কেউ নন ।

তাঁর কাছে না গেলে জানতামই না
কাকে বলে ভদ্র আচরণ, আর
কাকে বলে আন্তরিকতার ছোঁয়া !
আজ দু’চোখের ভিজে অন্ধকারে ভাবি,
আমার সব উদ্ভিদ কি শুকিয়ে গেল !