সামসুন্নাহার ফারুকের কবিতা

সামসুন্নাহার ফারুকের কবিতা

অপেক্ষা

লাউডগায় শিশির শুকিয়ে যেতেই
তেতে উঠলো ঝকঝকে রোদ
কুয়াশার পর্দা সরিয়ে নীল আসমান
প্রাণ ভরে সেরে নিল স্নানের আমোদ

শ্যামাঙ্গী মেয়েটি ডুরে শাড়ী পরে
সেজেছে অনন্যা হয়েছে উতলা
সে আসবে বলে উর্বশী দুপুরে
আজ তার শুধুই অপেক্ষার পালা ।

লাস্যময়ী বসন্ত

জড়াজড়ি করে বসে ছিল ওরা
চোখে চোখ রেখে খুব কাছাকাছি
মর্নিং ওয়াকে আমাকে দেখে
তড়িৎ ছিটকে আলাদা হলো

তাকিয়ে দেখি—
চারিদিকে ব্লাশ করছে বসন্ত
সে এখন রং মেখে শরীরে মনে
লাস্যময়ী লীলাবতি সাজে
লালিত্যে ঝলোমলো
টগবগে জমকালো

পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে
মনে হলো
এমন বসন্ত দিন তো
আমাদেরও ছিল
টি এস সির চত্বর, রমনার মাঠ
আর্টস কলেজের বকুল তলায়
খুলে যেত হৃদয়ের গোপন কপাট

আহা কোথায় যে হারালো
কোথায় যে হারালো তারা

এখন তো দেখছি
এসব হারায় না
এসব কখনোই হারায় না
নিয়ম মেনেই চলে
চলতে থাকে কাল অনাদিকাল

কালের বিবর্তনে আমরাই
কেবল ফসিল হয়ে যাই ।

তুমি এলেনা বলে

তুমি আসনি বলে আজ আর
কবিতা লেখা হয়নি আমার
যে গানটি গাইবার কথা ছিল
ভুলে গেছি স্বরলিপি তার
আটত্রিশ ডিগ্রী তাপমাত্রার
ঝলসানো উত্তাপ সয়েও আকাশ
চেয়ে আছে কেমন নির্বিকার
বুঝছে না কিছুতেই প্রকৃতিই
এসবের দুঃসহ শিকার

বিগত যৌবনা নদির তলদেশে
চলছে ট্রাক্টরের নিবিড় চাষাবাদ
কৃষকের ফলন্ত খামারে
দাবদাহের জ্বলন্ত অগ্নিশিখা

বাষ্পীভূত মেঘের কণাগুলো
ঢুকেছে কি কৃষ্ণবিবরে ?
জীবনের জ্যামিতিগুলো কেমন যেন
অগোছালো এলোমেলো
মিলছেনা কিছুতেই

তুমি আসনি বলে
বৈকালিক আয়োজনে
চায়ের তৃষ্ণা মেটেনি
খালি কাপ দুটো টেবিলে
বিশুষ্ক পড়ে আছে
উষ্ণ ঠোঁটের স্পর্শের অপেক্ষায়

ঘনায়মান অন্ধকারে নক্ষত্র নগরে
এখন কোটি কোটি তারার মেখলা
ঝকঝকে আকাশের গায়
জোছনার হীরের নাচন

তুমি এলেনা বলে
আজ আর জোছনা মাখা
হলো না
তুমি এলেনা বলে
আজ আর কবিতা লেখা
হলো না ।