বিকাশ চন্দের কবিতা

বিকাশ চন্দের কবিতা

জন্ম অঙ্কুর

পূর্ণমাসী শরীর জানে নির্বাসিতা সে কোন সংসারী মায়া
অসম্পূর্ণ পরিক্রমা ঝিমুচ্ছে একাকী মানুষের ঘরে
বদ্ধ জলাশয়ে সমান্তরাল ছায়া শ্রেণি স্থির আশ্চর্য ঝড়ের গন্ধে
প্রতিশ্রুতি মতো জলাশয়ে ডুবছে সোনার ঘড়া সশব্দে উবুড়
শূন্য পথে মেলেছে চেতনা ডানা পাখিদের পালক খসে
প্রেয়সী বসুধা ঘরনি বুঝেছে প্রগলভতা সানন্দ সংগ্রাম।

শয়তান লজ্জাহীন বোঝে ও তেমন তাই শাসক উপাসক
যতটা স্তাবকতা বোঝে মোহান্ধ যৌবন পূর্ণ প্রসবা কথাকলি
প্রত্ন সময়ের কথা কী কেবলই জানে ক্রীতদাস
কোথাও গর্ভগৃহে ঘুমোচ্ছে নীরবে ইতিহাস প্রত্ন আখর
ছেঁড়া চাবুক ছড়িয়ে অবলুপ্ত অস্পৃশ্য শরীরের চামড়া রক্ত দাগ
বাহবা তীরন্দাজ বয়ে নিয়ে চলো হাওয়া মোরগ বাতাসের কাল।

সংসার জুড়ে মা বাবা সংসার বাচ্চা কাচ্চা পরম্পরা ছবি
লজ্জা সম্ভ্রম ঠোক্কর খায় জিভের ডোগায় আর ঠোঁটের সম্ভ্রমে
অসময়ে ও বিষম নীল আঁধার তবু আলো ত্রিনয়ান জ্যোতি
চতির্দিকে এতো ভস্মাধার কলস জানে কি সর্বত্যাগী
কোন শরীরে লেখা ছিল জাত ধর্ম বর্ণের উল্কি উল্লেখ
মানব জমিনে অকালে মরছে জন্ম অঙ্কুর সে কি রক্তের ব্যাবধানে।

পরাগ আচমন

করতল ছেড়ে আমার বীজের স্পর্শ ছুঁয়েছে জন্ম মাটি
বুকে ধানের সবুজ শরীর শিরায় নবান্নের স্বাদ
কতবার শরীর ভেঙেছে অরণ্য জগত লালমাটিয়া সংসার স্থপতি
বনবাসী জানে অরণ্য পোড়েনি পুড়ে যায় পাঞ্জর কপাল কুমারী
কাঙাল আঁচলে অভাগী মা বুক বেঁধে দেখে তেভাগা যজ্ঞের পূর্ণাহুতি
জল জমি জিরেত ও বোঝে বুক ভাঙা আগুন বাতাস।

সকল নিরন্ন মানুষ জানে উপবাস কাল অভ্যাসে সন্ন্যাসী ভাব
শরীরের সাথে হাঁটে সকল পরিবার ছায়া জাত প্রতিবেশী
সকল সম্পর্ক শুকিয়ে কালসিটে রক্তের ধূলো মাটি
মা জানে বাবা জানে সকল আত্মজন পাপে তাপে অনুতাপে
আহামরি লজ্জায় স্নিগ্ধ বিষণ্ণতায় ছড়িয়ে উপাচার
ফুল ফল সংক্রান্তি আচরণ কান্নায় ভেজে বৈশাখী আবরণ।

ঋতুপর্ণা সময়ের পাতায় তখন সূর্যের সীমান্ত আবীর খেলা
সকল জননী বেলায় সোনা রোদ লাল চাঁদ চুম্বন মাখে
যন্ত্রণা কালে প্রকৃতি ফুলের ভেতর মাখো মাখো পৌরুষ
আদিম সাপেদের ঘরকন্না বিবাদে বিপ্লবে রক্তে ঔরসে
বারুদের আগুন পিরিচ শরীর ফুঁড়ে গাছেদের জন্ম ঠিকুজী
কাঙালি সময় জানে ফুলেদের পরস্পর পরাগ আচমন।

গানের প্রহর

বহুবার আলো ঘরে ফিরে যেতে ঘিরেছে অন্ধকার
সাজানো আগুন গুহা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পথে ঘাটে
অগ্নি দগ্ধা সময় জড়িয়ে আছে আত্মার শব্দ অক্ষরে
তবুও মিতাক্ষরা ছুঁয়ে বাঁচে সকল জন্মান্তর
মহার্ঘ্য শরীর ছুঁয়ে শৈশব কৈশোর যৌবন আবহমান
জন্মকাল জড়িয়ে জল মাটি এখন বড় ভয় পালক প্রলয়ে।

পক্ষী সাবক জানেনা কতদিনে তার পিঠে জন্ম পালক নাচে
কতবার মা বাবা উড়েছে বিশ্বাসে বুকের বাতাসে
গাছেরাও জানে শাখায় ডালে বাঁচে জন্ম জন্মান্তর
সকল গাছের শরীরে শেকড়ে শ্যাওলা আর জলের মায়া
অনেক অভিমান শরীর জুড়ে বিশ্বময়
অরক্ষণীয়া প্রাণের বিষণ্ণতা দু’হাতে আগলে বুকে বিপন্ন পাগল।

সকল আলো ঘর বোঝে মায়া খেলা ভূবনে গোলকে
বিমুক্ত পাখিরা ও জেনে গেছে দিন রাত্রি জুড়ে অগ্নি প্রহর
এখন শ্বাসে প্রশ্বাসে ঈশ্বর আল্লা যীশু গ্রহ নক্ষত্র জোয়ার ভাঁটা ঢেউ
সকল চেনা দৃশ্যে সূর্যের ভগ্নদশা চাঁদের আয়ুকলা
হৃদয় জুড়ে এখন আত্মকথা অনিন্দ্য জন্ম সুর লয়
বর্ণহীন সকল ভাষা জুড়ে বিশ্বময় প্রজন্ম গানের প্রহর।