পিয়াংকী’র কবিতা

পিয়াংকী’র কবিতা

ছেঁড়াফাটা

(১)
এই যে ছেঁড়া ছেঁড়া মায়া,তার ভিতরেও কয়েকটা অলিগলি খানাখন্দ
গতবার শোক সামলে এ পথ দিয়ে ফিরে যাবার সময়
প্রতিটা বাঁকের বাঁদিকে পুঁতে রেখে এসেছিলাম জ্বলন্ত ল্যাম্পপোস্ট
হাঁটতে শেখেনি যারা,এখন প্রতিনিয়ত তারা পায়চারি করে এ রাস্তায়

গোধূলিতে কেউকেউ নামসংকীর্ত্তন করতে করতে পেরিয়ে যায় বর্তমান

তুলসী তলায় একটা তেলচিটে মাটির প্রদীপ
যত রাজ্যের দৈন্যদশা ওখানেই।

(২)
আজকাল আর সেই ছেঁড়াছেঁড়া কাঁথাটা দেখতে পাওয়া যায় না
বিছানায় লেপ্টে থাকতো যেটা,
মরে যাওয়া প্রিয়জনের গন্ধ শুঁকতে গেলে জড় থেকে মানুষ হয়ে উঠতো নিমেষেই

বহুদিন হলো তাকে দেখি না
কোনো আঘাত অথবা আনন্দ, তাকে ঘিরে কিচ্ছু চিহ্ন নেই
অথচ বরফের একটা চাঁই বেরিয়ে এসেছে আলমারির ওপর থেকে

দরকারের দিনগুলোতে আমি তাকে অভাব বলে ডাকি

(৩)

কিছু ছেঁড়া ছেঁড়া লোকজন। ভরদুপুরে চিৎকার করছে কয়েকটা কুকুর
চেনা মহল্লাটা তবুও কত পরিপাটি
যেন একটা দশমাসের পেট

এখানে খাটবিছানা নিয়ে বচসা নেই, মেকাপ তোলার রিমুভার নেই
ট্যাপকলের নলের দিকে তাকিয়ে আছে হাজারটা চোখ
থালায় ধোঁয়া ওঠা ভাত,
অথচ কেউ ছুঁতেও পারছে না

অগত্যা ফ্যানটুকুর জন্য জনতার হাহাকার

মানুষের গা থেকে সুতো ঝুলছে।
প্রতিটা সুতোয় একেকটা হোটেল

রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকি
নক্ষত্র শিখি
তারাখসাকে এলিয়ান বলতে ইচ্ছে করে।