এলিজা খাতুনের কবিতা

এলিজা খাতুনের কবিতা

এক ফালি রোদ

ভোরের চোখে তখনও কিছু ঘুম লেগে ছিল
জানালা খুলেছি মাত্র, দেখি-
রাত্রের পড়া বইটা মাথার কাছে খোলা এখনো

একফালি রোদ এসে পড়ে
খোলা পাতার কালো কালো অক্ষরে
তাপ-আলো পেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে বর্ণসমূহ
একে একে মাথা চেঁড়ে ওঠে সমস্ত শব্দ, বাক্য,
আর অন্ধকার রং-এ নির্লিপ্ত থাকা-
খন্ড খন্ড জনপদের মতো প্রত্যেক অধ্যায় ;
স্পষ্ট হতে হতে আরও স্পষ্ট কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে উঠছে

বেলা বাড়ার সাথে সাথে
প্রবল উজ্জ্বল আর তীক্ষ্ণ হয়
লিপিবদ্ধ কালচে শরীরগুলো

পৃষ্ঠাজুড়ে সারি সারি লাইনে দাঁড়িয়ে আছে
তীব্র কালো এক একটা জ্বলন্ত কয়লার দেহ
বৈষম্যের দুপুরে পুড়ে পুড়ে কঠিন থেকে কঠিনতর

শ্বাসরোধ করা ফ্লয়েডের কষ্টধ্বনি বুকে সেঁটে
বিক্ষোভ চলতে থাকে… চলতে চলতে..
পাতা থেকে নেমে আসে রাজপথে

যে কোনো ভাবে ফেরত চাই

সুপুষ্ট ফুল তুলে এনেছি
মালা পরাবো তোমার বিশালতার গলায়
এমন দিনে বিষাদ ঢেলে দূরে চলে যাচ্ছো তুমি !
আর কি দেখা হবে না তোমার সমুন্নত শির!
শঙ্কাতুর প্রাণ নিয়ে বসে আছি
তোমার ফেরার খবর নিয়ে দক্ষিণ বাতাস আসে যদি!
দেখে নিও, তোমাকে বরণ করবো
যা কিছু সুর তোলে
যা কিছু ফুল ফোটায়
যা কিছু সুরভি ছড়ায়… তাই দিয়ে
যদি ফিরে আসো, তোমাকে গ্রহণ করবো
যা কিছু স্থায়ী
যা কিছু সুগভীর
যা কিছু আলোক-উজ্জ্বল … তাই দিয়ে
সত্যিই যদি এসে যাও
যা কিছু সারিয়ে তোলার
যা কিছু পুনরুদ্ধার করার
সে সবকিছু করে দেবো
অশনিকালে
আশার উঠোন থেকে তুমি হারিয়ে গেলে
ফেলে যাওয়া মনের টালমাটাল দশা
তোমাকে কি একটুও কাঁপায় না !
ফিরে এসো, কথা দিচ্ছি
তোমার সৌন্দর্যের সুষম বন্টনে
সামঞ্জস্যের ভার নেবো
বিপুল হয়ে ফিরে এসো হে নির্মল