লুৎফুন নাহারের কবিতা

লুৎফুন নাহারের কবিতা

হেনিয়ো

তুমি যেন সেই অমূল্য শঙ্খ
অনেক মূল্যবান শঙ্খের ভিড়ে; সমূদ্র গভীরে।

দক্ষিণ কোরিয়ার মারাদী দ্বীপের হেনিয়ো হয়ে
যাকে আহরণ করতে উদ্যত আমি
ঝড়-জলে লড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছি ঝঞ্ঝায়
মৃত্যুভয়ের পরোয়া না করে।

হৃদয় আমার রোস্টেড গার্লিকের মতন
ভেতরটা নরম, উপকারী-উপশম
পরখ করে দেখবার আগেই পালিয়ে গেলে
বাইরের পোড়াবরণ আর রুখ্যতা দেখে;
তুমি এতটাই অযোগ্য বলে,
অতল ভালবাসার যোগ্যতা মাপতে চাইলে!

‘বুর্জ খলিফা’ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যে মেঘ দুবাইয়ের আকাশে ভাসে
সে মেঘ কতটা শীতল করে মরুর বুক
একমাত্র যাত্রীবাহী উটগুলোই জানে।

যাত্রীদের তবুও মিলে যায় এয়ারকণ্ডিশন গাড়ি
উটের বেঁচে থাকার কণ্ডিশন একটাই,
যাতায়াতে সাহায্য করা চাই
নতুবা তার সর্বোত্তম স্থান কষাইখানাই সহি।

তোমার ইগোর কষাইখানাতে
কর্তন হয়েছে আমার অসংখ্য মরুর উট
রক্তাক্ত কারবালার মতন হৃদয়ের সব চোট
সয়ে গেছি চুপচাপ, চৈত্রের চিলেকোঠার ধুপ।

ধূপজ্বলা সন্ধ্যায় ধোঁয়াভরা নির্জনতায়
কারও ঠোঁটের কোণের সিগারেটে
জ্বলে উঠলে চিতার আগুন
এখনও আলো ভেবে ঝাঁপ দেয় কোন কোন পতঙ্গ মন।

কুর্নিশ অহর্নিশ

কার্নিশে বসে থাকা পাখিটা উড়াল দিলে হঠাৎ!
ভাবি, পাখিদের মতন নত হয়ে ব্রত করে ক’জন?

তোমাদের সাকরাইন অনুষ্ঠানে উড়িয়ে চলেছ
সামাজিক ব্যাধির ঘুড়ি,
ভালবাসতে শিখলে না পুরোপুরি-
অথচ ঊন-মানুষ বললে চোখ রাঙাও; ধ্যাততেরি।

যারে তারে কুর্নিশ করে চলা অহর্নিশ
শ্রদ্ধার প্রকাশ নয়,
বরং নিজের মূল্যবোধের শ্রাদ্ধের সামিল।

অহংকারি মনের অলংকার, মানুষকে হেয়ো করার এখতিয়ার।

সন্মান দিলে সম্মান মিলে
অতিসম্মানে সাধুকেও মনে হয় চোর;
ধ্রুব সূর্যটা, ঢেকে গেলেও মেঘে

ধূসর ধরা’য় ধরা দেয় রাত্রি-দিনের স্পষ্টরূপ ।