মোনালিসা নায়েকের কবিতা
প্রতীক্ষা
পড়ন্ত বিকেলে সায়াহ্নের বাতাসে বিষাদরেখা
যুবতীবেলার পুরানো বিলাপে রোমন্থন
কোজাগরী শাড়ি জড়ানো চাঁদের নির্জনতা মেখে সময়ের কাছে নত হওয়া দীর্ঘশ্বাস
অপরিণত বয়সের মোহ-দুরারোগ্য ব্যাধি,বসন্তের শ্রাবন।
রাতের গর্ভে ছায়া রেখে যায় চাঁদ
অন্ধকারের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে রপ্ত করি বিনয়ী হওয়ার কৌশল
নতুন দিনের গায়ে হলুদ মেখে
জীবনচৌকাঠে নবসূর্যোদয়ে শুভ সূচনার প্রতীক্ষা।
নক্ষত্রপতন
জ্যোৎস্নায় রাতের আকাশে নক্ষত্রের সৌন্দর্য্য চিরে অফুরন্ত শব্দের ভান্ডারে ব্যথারাশির নীলকে উড়িয়ে দিই আকাশের নীলে,
শব্দের সারণী বেয়ে গভীর ভাবাবেগে জন্ম হয় কত কবিতার
অপ্রাপ্তির কটাক্ষতায় নিঃসঙ্গ নৈঃশব্দ্যে –
চোখের তারা আর আকাশের তারাকে মেলাতে ভয় পাই কখনও কখনও,
এই বুঝি তারা খসা দেখলাম
যা অশুভ সংকেতের ইঙ্গিত দেয়
অভিমান পুষে বহু নক্ষত্র পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মিশে গেছে মহাকাশে
জীবনছায়ায় শুধু অভিভাবকহীন বিবর্ণতা
কি করে ভালোথাকা যায় কবিতা?
বর্ম
পোশাকি নামে তুমি মানুষ
অথচ মনুষ্যরূপে পিশাচের নৃশংসতায় কখনও ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত
আবার অভ্যন্তরে থাকা আদর্শে প্রতিবাদী জাগরণে -দেবতা
মনুষত্বের বাহকরূপে মহান
রঙের তারতম্যে বৃথা তোমার কদর।