মো. হাকিমের কবিতা

মো. হাকিমের কবিতা

মহীরুহ এক মহীপতি

স্বপ্নের সোনালী ফসলে
একদিন
ভরে উঠবে
সোনার বাংলার এ সবুজ মাঠ ঘাট
বাংলার প্রতিটি মানুষের
ঘরে ঘরে বইবে
শান্তির সুবাতাস
মানুষের অন্তর হবে
সকল সুখের শেষ ঠিকানা
এ রকমই তো হওয়ার কথা ছিল ।

এ স্বপ্ন নিয়েই তো
একদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া
থেকে
খাল নদী মাঠ ঘাট পেরিয়ে
শত বাঁধার প্রাচীর
মাড়িয়ে
পল্টনের জনসমুদ্রের ভিড়ে
দাড়িয়ে
বজ্র কণ্ঠে একটি আওয়াজ
তুলেছিল এক মহীপতি
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

বজ্র কণ্ঠের সে তূর্য নিনাদে
প্রকম্পিত হয়েছিল
এ বাংলার আকাশ বাতাস
প্রকম্পিত হয়েছিল
এ দেশের ছাত্র জনতা আবাল বৃদ্ধ বনিতার
বুকে লালিত
অস্ফুট
মুক্তির প্রত্যাশা-
মুক্ত হবে এ দেশ,
সোনার বাংলার সোনার মানুষেরা
রোদ বৃষ্টিতে ভিজে,
আপন পর সকল ভেদাভেদ ভুলে
একদিন সোনা ফলাবে এ বাংলার জমিনে।

ক্ষত বিক্ষত হলো সেই স্বপ্ন
রক্তাক্ত হলো এদেশের
মাটি ও মানুষ
লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত হলো
এ বাংলার জমিন
হারানোর বেদনায়
মায়ের
চোখের জলে
প্লাবিত হলো এ পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা
হাজারো বোনের
নিরব কান্নায় ভেসে গেলো
স্বপ্ন সুখের কত আলপনা,
বিনিময়ে পেলাম
আমরা
স্বাধীন সত্ত্বার
একান্ত আপন একটি ঠিকানা।

এ বাংলার জমিনে ফলবে সোনালী ফসল
এ বাংলার জমিন হবে
এক সোনালী স্বপ্নের নিশানা
একরাশ
স্বপ্ন নিয়ে দীপ্ত পায়ে
মহীরুহ এক মহীপতি
সেদিন
বিশ্ব মানচিত্রের বুকে একটি তিলক (বাংলাদেশ ) এঁকে
মাথা উঁচু করে
আমাদেরকে বাঁচতে শিখিয়েছিল
তার নাম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

একটি স্বাধীন দেশ
লাল সূর্য খচিত একটি সবুজ পতাকা
বহমান নদীর কলকল ধ্বনি
কৃষাণ কৃষাণীর মাঠ ভরা
সবুজ ধানের ক্ষেত
গাছে গাছে দোয়েল শ্যামা আর ঘুঘুর
মন মাতানো ডাক,
এসব স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে যায়
একজন নির্ভীক কান্ডারী
তার নাম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এমন একজন স্বপ্নচারী মানুষের
বুক ভরা পাহড়সম
স্বপ্নগুলো
একদিন
রক্তের স্রোতে ভেসে যায়
পাষণ্ড ঘাতকের নির্মম
বুলেটের আঘাতে,
তার নিষ্প্রাণ নিথর দেহখানি
লুটিয়ে পড়ে থাকে
ধানমন্ডির বত্রির নম্বর
বাড়ির
সিঁড়ির ঠিক মাঝখানে,
সেদিন বিষাদের ছায়ায়
গুমোট বাতাসে থেমে গিয়েছিল
পাখির সব কলতান
নিরব কান্নার জলে
ভেসেছিল
এ বাংলার মাঠ ঘাট,
থেমে গিয়েছিল বহতা নদীর
সকল স্রোতধারা,
শুধু থামেনি সেদিন
হায়েনা রূপী বিশ্বাস ঘাতকের
নির্লজ্জ উল্লাস,
ভেবেছিল
এখানেই বুঝি সব শেষ;
তারপর সময়ের স্রোতো
সবুজ প্রান্তর হয়েছে
ধূসর তটভূমি
মেঘের আড়ালে
নদীর জল ঘোলা হয়েছে বারবার
সে ঘোলা পানিতে
কপট দেশ প্রেমিকেরা
এ দেশের সকল স্বার্থকে
পদদলিত করে
মাছ শিকারও করেছে
বহুবার।

সময়ের পরিক্রমায় অতঃপর একদিন
রাতের অমানিশা শেষে
সোনালী ভোর আসে
জেগে উঠে মাটি ও মানুষ
জেগে উঠে
মানুষের বুকে লালিত
অস্ফুট
সেই মুক্তির প্রত্যাশা-
স্বপ্নচারী সেই মহীপতি কাণ্ডারীর
রক্তস্নাত
বেলাভূমি হতে
আবার জেগে উঠে অজস্র স্বপ্নচারী মানুষ,
এ বাংলার আকাশ বাতাস
আবার ভরে যায়
শিউলির গন্ধে
সোনালী সূর্যোদয়ের প্রত্যাশায়
এগিয়ে যায়
অসংখ্য তারার মিছিল,
ভোরের শিশির কণার মত
একটু একটু করে
বুকের ভিতরে
জমতে থাকে
স্বপ্নের শ্বেত শুভ্র মেঘমালা,
মুক্তির ঝান্ডা হাতে এগিয়ে যায়
লাখো জনতার
মুক্তির প্রতীক
একটি নির্বাক ভালবাসার
ছায়ামূর্তি
যার নাম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

অন্য কোন ক্যানভাসে

নীল আকাশটাকে দেখবো বলে
খোলা জানালায় যখন
চোখ রাখি
ঠিক তখনই কালো মেঘ এসে
আকাশটাকে ঢেকে দেয়।

বৃষ্টিতে ভিজব বলে
খোলা আকাশের নীচে এসে
আকাশ পানে তাকাই যখন
ঠিক তখনই
মেঘ বৃষ্টির খেলা শেষে
মেঘের ফাঁকে রোদ হাসে।

মেঘের সাথে কাশবনের মিতালী
দেখবো বলে
শরতের এক বিকেলে
নদীর পাড়ে এসে দাঁড়াই যখন
ঠিক তখনই
সন্ধ্যা নেমে আসে দিগন্ত জুড়ে।

জ্যোৎস্নার চাদরে মুড়ানো
স্নিগ্ধ আলোয়
নরম ঘাসের উপর দাঁড়িয়ে
যখন বিভোর
একান্ত তোমাতেই
ঠিক তখনই
আচমকা স্বপ্ন ভেঙে যায়
নিশাচর পাখির ডানা ঝাপটায়।

গভীর রজনীতে
নির্জনে একাকী বসে
স্বপ্ন ভাঙ্গার গর্জনে
বুকের গভীরে যখন
কেবলই
শূন্যতার রক্তক্ষরণ
ঠিক তখনই
ধুমকেতুর পতনে
শুনতে পাই নক্ষত্রের কান্না।

ছন্দহীন জীবনের
বাঁকে বাঁকে
পুঞ্জিত যত গ্লানি
কালো মেঘ হয়ে
যখন আমায়
ভাসিয়ে নিয়ে যায়
একাকীত্বের নির্জন কোন দ্বীপে
তখন আমি
স্বপ্ন বুনে যাই
নতুন করে অন্য কোন ক্যানভাসে।

প্রত্যাশার শেষ বিন্দু অবধি

স্বপ্নগুলো আমায় তাড়িয়ে বেড়ায়
শুভ্র অমল ধবল সাদা মেঘের মত
আমি হেটে বেড়াই
দিগন্ত বরাবর
স্বপ্নের সীমানার সমান্তরালে
পিছনে পড়ে থাকে
খন্ড বিখন্ড অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলো।

রংধনুর রঙ মেখে
আমি নিরন্তর খুঁজে ফিরি
রঙিন কোন প্রজাপতি
নীল আকাশের তারায় তারায়
আমি খুঁজে বেড়াই
স্বপ্নিল ভালবাসার নির্মল তটভূমি।

রাতের আঁধারে নক্ষত্রের আলোতে
আমি হেটে বেড়াই
অজানা অচেনা পথে
স্বপ্নের ঠিকানার
শেষ প্রান্ত অবধি
সে তো আমায় যেতেই হবে।

স্বপ্নের মেঘমালা ভেসে যায়
আশা নিরাশার দোলাচলে
প্রত্যাশার পারদের
উত্থান পতনে
বিন্দু বিন্দু মেঘ জমে আমার অনুভবে
তবুও আমি এগিয়ে যাই
নতুন কোন পথের ঠিকানায়
প্রত্যাশার শেষ বিন্দু অবধি ।