কাঞ্চন রায়ের কবিতা

কাঞ্চন রায়ের কবিতা

আগুনের অসুখ

আগুনও পোড়ে প্রতিনিয়ত
প্রতিদিন তাকে তাড়া করে মৃত‍্যু ভয় ।
আগুনের দহনে ক্ষয় রোগ আছে
তিল তিল করে মরে বাঁচার প্রচেষ্টায় ।
ফাঁপা শরীরে বিষাক্ত ধোঁয়া
লেলিহান শিখার হুমকি,
আসলে তা অবক্ষয় ।
দরিত পাঁজরে কাম-ক্রোধ-ক্ষুধা;
যে ভালোবাসে সঙ্গমে তাকেই করে ছাই ।
তপ্ত অহংকারে জ্বলে পুড়ে ছারখার দেহ,
আর মৈথুনের বক্র রিপুতে ক্ষতবিক্ষত হৃদয় ।
তাই আগুনের বড়ো অসুখ,
আগুন বড়ো অসহায় ।
যাকে পায় আঁকড়ে ধরে
খোঁজে বাঁচার উপায় ।

তুমি তো এসবের কিছুই জানো না

শুধু যেকটি কথা না বললেই নয়,
তাই নিয়ে তুমি হিসাব মেলাতে আসো
বারবার। শরৎ আকাশের হালকা মেঘগুলো,
কত পশলা বৃষ্টি ঝরিয়েছে গত রাতে
সে খবর তোমার উঁচু গন্ডির চোখ ধরতে পারে না,
এসব আমার প্রথম থেকেই জানা ।
তোমার অঙ্ক মেলানোর অভ‍্যেসটা
যে একেবারেই অপাংক্তেয়,
একথাও ঠিক ততটা খাঁটি নয়
যতটায় খাতা মুড়ে ফেলতে হয়।
আসলে আমার তোমাকে ঠিক
অমন দেখতেই ভালো লাগে।
বদ অভ‍্যাসগুলো না থাকলে যেমন
বিদ‍্যুৎ ক্ষরণ একলা হয়ে পড়ে–
তোমার ছন্নছাড়া রূপটাতেই আমার মধুরানী ঘর বেঁধেছে,
তুমি তো এসবের কিছুই জানো না।
আসলে তোমাকে আমার ওপরে
ভেসে থাকতে দখার তৃপ্তিটা ঠিক
ভিতরে প্রবেশ করার মত নরবড়ে নয় ।
তুমি হিসেব মেলাতে মেলাতে যখন
বড্ডো বেহিসেবী দূর্বল হও
তখন তোমার না পাওয়ার কাতরতা, আমার
প্রবাহের তাঞ্জামে পরিণত হয়।
ঠিক তখনই আমি চুলের বাঁধ খুলে দিই,
আমার অন্তরে অন্তরে তোমার যে অটুট বাহুপথ আছে,
স্রোতগুলো ঠিক সেই পথ ধরে প্রবাহিত হতে থাকে —
তুমি আবার আমার বৃষ্টি মাপার চেষ্টা করো সেন্টিমিটারে ।
প্রবল উষ্ণতা এলে ঠোঁট ছোঁয়াও,
আমি একটু আগে প্রশ্ন দেওয়ার খাতাটাই লুকিয়ে রাখি।

আগুনের অসুখ

আগুনও পোড়ে প্রতিনিয়ত
প্রতিদিন তাকে তাড়া করে মৃত‍্যু ভয় ।
আগুনের দহনে ক্ষয় রোগ আছে
তিল তিল করে মরে বাঁচার প্রচেষ্টায় ।
ফাঁপা শরীরে বিষাক্ত ধোঁয়া
লেলিহান শিখার হুমকি,
আসলে তা অবক্ষয় ।
দরিত পাঁজরে কাম-ক্রোধ-ক্ষুধা;
যে ভালোবাসে সঙ্গমে তাকেই করে ছাই ।
তপ্ত অহংকারে জ্বলে পুড়ে ছারখার দেহ,
আর মৈথুনের বক্র রিপুতে ক্ষতবিক্ষত হৃদয় ।
তাই আগুনের বড়ো অসুখ,
আগুন বড়ো অসহায় ।
যাকে পায় আঁকড়ে ধরে
খোঁজে বাঁচার উপায় ।