ইলা সূত্রধরের কবিতা
অন্ন বর্ণমালা
লাঙ্গলের ফলা কর্ষণ করে মাটির স্তরকে
খেতের জমিতে রোপন হচ্ছে শষ্যের চারা
ফসল ফললে কাস্তের টানে গোলা ভরে যায়
সফলতা এলে নবান্নে তাই উৎসব হয়
কৃষকের এটা মহান প্রেমের মানবিক দান
তাই ঘরে ঘরে অন্নদাতাকে ঈশ্বর মানে
যাপন জাগায় তবুও জুলুম এদেরই ওপর
দানবের গ্রাসে অভাবী জীবন শুধু ভুখা মরে
চিরকাল দেখি আঁতাত করে শোষক শাসক
তাদেরই পোষা ভাড়াটে গুন্ডা হুঙ্কার ছাড়ে
সুযোগ পেলেই রাষ্ট্রনেতারা বর্গিকে ডাকে
বন্দুকবাজ লুট করে নেয় চাষের খামার
সন্ত্রাস ছড়ায় অস্ত্র এবং বারুদের নল
প্রত্যয় নিয়ে বুক পেতে তবু চাষী জেগে থাকে
ক্ষেতে খামারে গ্রাম ও গঞ্জে উঠেছে আওয়াজ
প্রতিরোধ প্রতিবাদের মিছিল ব্যারিকেড তোলে
মুখের অন্ন যারা কেড়ে খায় তারাই মহান
তাই জমায়েত বিদ্রোহ করে রাজধানী জুড়ে
পরোয়ানা জারি রাষ্ট্রদ্রোহী কৃষকের নামে
মেশিনের সাথে মানুষের বাধে অসম লড়াই
প্রাসাদের ভোগ বিলাসিতা ছেড়ে উঠে এসে রাজা
একবার মাটি ছুঁয়ে দেখে যাও এইতো জীবন
একমুঠো ভাত স্বাদ ও গন্ধে অনাবিল সুখ
তাইকি অন্ন বর্ণমালায় স্থান করে নেয়
নাটক
জীবন কি অদ্ভুত সময় তা জানে
বার বার ছুটে চলে স্রোতের মতন
নিশুতির রাত খোঁজে একাদশী চাঁদ
পেঁজা মেঘ ছিঁড়ে ছিঁড়ে আঁধারে হারায়
পটভূমি সরে যায় নিদারুন ঝড়ে
অনাহুত ঢেউ এসে ভাসালো এখন
ভেঙেছে বসত বাড়ি চাষে ক্ষয়ক্ষতি
কখনো প্রহরগুলো গোনে অভিশাপ
যত্নে লালিত যারা জীবন যাপনে
সেও হয় একদিন নিঃসঙ্গ একা
কুশীলব আজ নেই মঞ্চটা ফাঁকা
ভাঁটার জলের দাগ স্তরে লেগে থাকে
স্মৃতির রোমন্থন নির্জন তীরে
স্বপ্নের সুখ খুঁজি ঝিনুকের দেশে
সমাজ ও সংসারে মেলেনা হিসেব
এভাবেই নাটকের সমাপ্তি ঘটে
স্বাধীন ডানায় উড়ি
একটা নারীদিবসের পালনের মধ্যে
তোমরা আমাকে সম্মানিত করছো আজ
ট্রেনে বাসে অফিস আদালতে
আমার আসন সংরক্ষিত রেখেছো
অথচ প্রতিদিন তোমার কামনার চোখে
আমাকে নগ্ন করেছে বারবার
উষ্ণ ঠোঁট আর জিহ্বা নারী শরীরকে
চেটেপুটে খেয়েছে
কিশোরী বা বৃদ্ধা মহিলাকে
শুধু একটা শরীরই ভেবেছো
আমি শক্তির দেবী হয়ে উঠি
লালন পালন করি
আমার জঠরে বেড়ে ওঠে রোজ
পুত্র ও কন্যার ভ্রুণ
শিশু সন্তানের মুখের বুলি
আমার শেখানো কথা
তিল তিল করে গড়েছি স্বপ্ন
তবুও অবহেলিত আমি
রাতের সুখের নিদ্রা বিসর্জন দিয়ে
স্নেহের পরশে সন্তানকে বড় করি
তবুও পিতার পদবীতে আজও ভূষিত কেন
আমি বীর ঝাঁসির রাণী
কখনো মহাকাশের কল্পনা চাওলা
স্বাধীনতা সংগ্রামের আমি প্রীতিলতা
বুড়িবালামের মাতঙ্গিনী
সতীত্বের অগ্নি পরীক্ষায় সীতা
আমি অপ্সরা রম্ভা
নিজেকে প্রমান করেছি বারবার
তবু আজও সেই দানের পাত্র হয়ে আছি
পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কর্ম করতে পারি
তবুও আমি দূর্বল অসহায়
একাকী রাস্তায় ভয়ে আঁতকে উঠি
হায়না আর শৃগালের দৃষ্টি চেয়ে থাকে
ক্ষমতা জাহির করো
ওগো সমাজের ধারক বাহক
তোমাদের কেন পুরুষ দিবস হয় না
নারী দিবস স্বীকৃতি দিয়ে
আরো খাটো করেছো আমাদের
বরং একটা আকাশ দাও
একটু স্বাধীন ডানায় উড়ি