সুফল সান্যালের কবিতা

সুফল সান্যালের কবিতা

কর্কট ও নির্জন সৈকত ১

ভগ্নাংশগুলো তিনবছরে,
সময়ের আঠাকলে যতটুকু জোড়াতালি দিয়ে
রাখা যায়, রেখেছিলাম। সব যেন আবার
তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ছে। মনে পড়ছে
সেই নভেম্বর মাস। বায়োপ্সি রিপোর্ট।
মায়ের সজল চোখ। এক হাসপাতাল
থেকে অন্য এক হাসপাতাল ।
গয়না বন্ধক রাখা। ভাড়ার শূন্য। সুযোগ বুঝে
কোপ মেরে যাওয়া আত্মীয় বান্ধব।
মধ্যবিত্ত পরিবারে উবে যাওয়া শেষ সঞ্চয়।
আর কয়েকটি ত্রস্ত মুখ-
পুড়ে যাওয়া ঘরের দিকে চেয়ে।

কর্কট ও নির্জন সৈকত ২

একমুহূর্ত যেন নিঃস্তব্ধতা।
চাদরের চারপাশে এক উত্তাল অগ্নি বলয়।
মধ্যে মধ্যে আবর্তিত আমার অস্তিত্ব।
না থাকা যায়, না পালানো যায়।
কর্কট আমার বালিশের পাশে ঘাপটি মেরে থাকে।
নির্জন সৈকত কল্পনায়।
আমি দিনদিন বদ্ধ নির্ঘাত উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি।
অথবা শুধুই এস্কেপিস্ট মনোভাব।
শতাব্দীর ভোগান্তি নিয়ে প্রতি মিনিট মিনিট-
অমরত্বের অভিশাপে ঘুরে বেড়াচ্ছি
পৃথিবীর অন্ধকার প্রান্তরে প্রান্তরে-
অশ্বত্থামার মতন।

কর্কট ও নির্জন সৈকত ৩

গ্র‍্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ। একটি যুদ্ধজয় অবশেষ।
শিবিরে বিশ্রামরত ক্লান্ত সৈন্যদল।
ইতস্তত পাক খেয়ে যাওয়া কাজের সন্ধানে।
লড়াই আরও তীব্র। আমি নিরস্ত। ধেয়ে আসছে হিংস্র শ্বাপদ।
স্টাগল্ স্ট্রাগল্ ফর এক্সিস্টেন্স।
বহুদূর থেকে ভেসে আসা আত্মীয়ের যান্ত্রিক উপদেশ।
রেকর্ড বাজছে দুই দিন অন্তর অন্তর।
কথা বলি না এখন কারো সাথে আর।
সকালে একেঘেয়েমি গ্রাস করে।
প্রতি গাঁটে গাঁটে এক অশনিসম্পাত।
মাথা চারা দিয়ে ওঠা কর্কট রাশির অভিশাপ,
আর নির্জন সৈকতে বেঁচে থাকার শেষ উদ্যম।