ভবেশ বসুর কবিতা

ভবেশ বসুর কবিতা

পাঁচ সবুজ পাতা


খাতায় অনেক আঁকিবুকি… খাতায় অনেক যৌবনে থাকা মেয়ের ছবি,কাঁটা গাছের জঙ্গলও পাতায় পাতায়
সূর্যাস্ত তাকে কে দেখাল— সেটাও আছে এক আকাশ।
ছেলে আঁকছে— আঁখতে শিখেছে,কালিতে কথা বলছে তুলিতে কথা তুলছে,ছেলেটি অনেক হিজিবিজি——বারবার নদী নালা,পুকুর ডোবা সাগর ঢেউ
বৃষ্টি তো কম হয় নি——বৃষ্টিও গভীর।
বৃষ্টি আঁকছো কেন ছেলে, সূর্যাস্ত কেন হল—-এত কাঁটা,নালা ডোবা—-বারুদ বন্ধুক,পা রাখবার জায়গা নেই
এই দেখ কি আঁকতে হয়——
তার হাতে ছেলেটি আঁকা শিখছে——এক সাথে তিন রঙ
প্রথম তুলিতেই মা
দ্বিতীয় তুলিতে বাবা
তৃতীয় তুলি তার শরীরে লিখেছিল মানব সন্তান।


পায়ে কাঁটা নেই এমন কাউকে আজ অবধি দেখিনি
তোমাদের জানা থাকলে একটি বিজ্ঞাপন দিও
অথবা আওয়াজ করে জানিয়ে দিলে আমি তৎক্ষণাৎ পৌঁছে যাব সেই অভিশাপে।
একফোঁটা রক্ত পড়েনি ছেলে সাইকেল শিখে নিল
অথবা জ্যোৎস্নার কাহিনী শুনে রাত জাগেনি—এমন কেউ আছে কি না,আলোর চেয়েও দ্রুত বেগে জানিয়ে দাও
আমি তার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে চাই সেই সোহাগ।

যেদিন জেনেছি ভালোবাসতে হবে—–সেদিন হতেই দুপুর বিকাল সন্ধ্যা রাত
জন্ম নিল নিজের গায়ে আঁচড় কাটার অধিকার।


সব রঙই শেষ করে ফেললাম
মা একটা তুলি ধরিয়ে দিয়েছিলেন—-দেওয়াল,গাছের গোড়া ও মাটিতে লাগিতে দিতে
মায়ের কথা রেখেছি
ধানশীর্ষে রঙ লাগিয়ে দিতেই অভাব মিটল,মাটির দেওয়াল পাকা—–গাছটা সবুজ,মাটির রঙ তোমাদের জানা
খালি হয়ে যাওয়া বালতি ফেলে দিয়েছি।

একদিন এক দুপুরে শাড়ির প্রতিমা এসে বালতিটা চাইল
এ কি,এখনো তো পাখির পালক আঁকা বাকি
বাড়ি ফিরবে কিভাবে !


এমন কোনো ছবি আছে যার মুখ নেই !
মুখ থাকলে ঠোঁট,নাক কান কপাল জানা যাবে
নিজেকে পরীক্ষা করে তোমরাও দেখে নাও কিসের অভাব
আসলে আমার একটি ছবি এঁকেছে একজন
কিছু একটা নেই বলে ভঙ্গিমা বোঝা যাচ্ছে না।

ডিব্বায় রাখা একরাশ খুচরো পয়সা,হয়তো ষোল আনাই
তবু একত্র করে একটি টাকা পাওয়া গেল না।
কাকে বাদ দিয়ে কি এঁকেছ শিল্পী ?
এত হাড়গোড় ভেসে যায়—–আমার একফোঁটা অশ্রু পড়েনি !


সকলে মিলেমিশে অনেক প্রদীপ গড়ে ফেললাম
অন্ধকার দূর হবে এই আশায় পাথর ফাটিয়ে মাটি বার হল
এক মুখ আলো এমন সকল সৃষ্টিগুলি দেখতে ভিড় জমে
ভাই দাম কত ?
প্রদীপের দাম,সে তো অনেক—-সূর্যকে দাম দিয়ে কেনা যায় না
তবু সকলে পকেট হাতড়ে যা দিল,তাই নিয়েই আমরা খুশি।
আলো থাকলে তো হয় না,আলো ধরতে হয়
আলো নেবে বলে প্রদীপ এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে গেল।
পরদিন অনেকেই ফিরে এসেছে প্রদীপ হাতে,অনেকে আসেনি
যারা এসেছিল তাদের কারো প্রদীপ জ্বলেনি
যাদের ভিতর আগুন ছিল তারা কেউ আলো জ্বেলে উঠতে পারেনি।