চ‍্যাটার্জী অমলের কবিতা

চ‍্যাটার্জী অমলের কবিতা

অপরিণামদর্শী আবেগ

শূন্যতা যখন শরীরে বাসা বাঁধে…
তখন সময়ের ছায়ায় স্মৃতিগুলো চাহিদা মেটাতে
অদ্ভুতভাবে ঘিরে ধরে আমায়, বনেদি অস্তিত্ব প্রমানে
তারা তুমুল আলোড়নে নিশান পোঁতে কল্পপ্রান্তরজুড়ে।

রাত জাগা বাদুড়ের মতো মহাসমারোহে
রাতভোর জীবনের অর্থ খুঁজতে ঝুলে থাকি সময়ের
ডালে । আশা নিরাশার আকাশে উড়তে উড়তে কত যে
শোভন পালকের হাসি অকালে ঝরে গেল…
কত যে স্বপ্ন দৈর্ঘ্য প্রস্থ মেপে ধ্রুবসত্যে তলিয়ে গেল… !

জানো, ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে ইচ্ছার মানচিত্রে
কখন দৃশ্যমান হবে তোমার অস্তিত্ব ? প্রতিক্ষারাও যে
প্রতিক্ষার তরজমা পড়তে পড়তে বড়ই ক্লান্ত।

এক আমন আঁকা সন্ধ্যায় আমি শুনেছি তোমার কিছু
শব্দের নিবিড় বুনন, প্রেম দিয়ে সাজানো কথার ঘায়ে
সেদিন ছলকে উঠেছিল হৃদয়ের কম্পন । বলেছিলে
চিরবন্ধনে বাঁধবে আমায় দুবাহুর নিবিড় বন্ধনে।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়তে বাড়তে হয়ে গেল কয়েক
বছরের বাসি , প্রত্নসময় তার হিসেবের চিহ্ন এঁকে
গেছে সমগ্ৰ প্রকল্পের শরীরময় ।

নাগরিক বেশে তোমাকে পেয়েও শেষ দৃশ্যপটে ঝরে
পরলো অপূর্ণ বসন্ত , মগজ থেঁতলানো স্মৃতির হাঁড়িতে
শব হয়ে পড়ে রইলো তোমার অপরিণামদর্শী নোনাস্বর ।

আবার দেখা হবে

হ্যাঁ, বন্ধু দেখা নিশ্চয়ই হবে,
সকালে ভিজে হাওয়ার তীক্ষ্ণ শীসের সাথে
চড়াই উৎরাই ভেঙে ধীরগতিতে এগিয়ে যাওয়া অজানা
কোনো পথের বাঁকে বা মাথার উপর জ্বলন্ত সূর্য রেখে
আকাশ ও দিগন্তের মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায়,
যেখানে থাকবে উচ্ছ্বাস ঝাপানো সবুজ ক্ষেত বা মস্ত
বড় ময়দান । সূর্য ডোবার শেষ সাক্ষী হতে তুমিও এসো
বন্ধু, দেখা হবে।

ক্রীতদাস প্রেমের অবশিষ্ট আর কিছু হলুদ স্মৃতির
বোঝা কাঁধে আমি থাকবো সেখানে বুনো দীর্ঘশ্বাস
ফেলে।যে বিশ্বাস আমি কপাল ঠুকে খেয়েছিলাম,
বদহজমের বন্ধুত্তে তার মাটি হয়েছে অনুর্বর । সময়
তার পদচিহ্ন এঁকে গেছে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে।
শরনার্থীর মতো ভিড় করে আছে আমি কখনো দেখতে
চাইনি সেইসব স্বপ্নের টুকরো টুকরো কোলাজ। তাদের
মাঝে থেকো বন্ধু, নিবিড়ভাবে খুঁজলে পাবে নানান
অজানা কথার পটভূমি।

হ্যাঁ, সেদিন থাকবেনা বাহারি আয়োজনে স্মরণের
পিছুটান। সেদিন নতুন পাতায় ভালোবাসা বা বারুদের
নতুন অধ্যায়ে হবে হয়তো আর একটি গল্পের অধিবাস।
পৃথিবী যখন গোল তোমার সাথে আমার আবার দেখা
হবেই হবে বন্ধু পৃথিবীর যেকোনো ময়দানে ।

সুলভ ভাবসম্প্রসারণ

জীবিত ভুতদের সারাদিন সভা সমিতির ঠেলায়
নাগরিক জীবন মসৃণভাবে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের
অপেক্ষায়।রঙ্গসভায় কিংবদন্তী হবার তুমুল প্রত্যাশা
মাড়িয়ে মাড়িয়ে হররোজ দাপিয়ে বেড়ায় পাতালঘর
থেকে চিলেকোঠা। কেউবা নিলামের বাণিজ্যিক সুরে
মুগ্ধ হয়ে বিক্রির নির্লজ্জ আলিঙ্গনে নিজেকে চড়াচ্ছে
দাঁড়িপাল্লায় ।

অন্নের বাটিতে চলে সুরাপান, অনাবৃত দৃশ্যপটে বসে
ব্রেম্ভদত্তির সভাপতিত্বে পন্ডিত ভুতদের সস্তা বিনোদনের
অধিবেশন। অভিশপ্ত শতাব্দীর কাঁধে হাত রেখে
কৃষ্ণরাতের গহ্বরে ধীরে ধীরে তলিয়ে গেছে আমাদের
প্রাচীনলিপি, খাগের কলম, লাঙলের ইতিহাস।

গভীর হলে অন্ধকার, রাজপথে গরম রক্তের আস্তর হয়
পুরু। অনুতাপহীন শানিত ফলায় বারবার কেঁপে ওঠে
নাগরিক কলজে । বোধের প্রকৃত সৌন্দর্য শূন্য করে
পর্যায়ক্রমে জীবিত গন্ধে আলগা হচ্ছে
জীবনের মাটি।

নিজস্ব বোলচালে রাজা উজির মেরে সামাজিক বন্ধনে
স্বপ্ন বিক্রির ক্লেদজ কামনার ফিকির খোঁজা ওনাদের
প্রকৃত কর্ম। ধর্মান্ধ ভাবনায় নাগরিক জীবনের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে চমকায় ঔপনিবেশিক ছায়া, উলঙ্গ বৈষম্যে
সমাজ এখন আড়াআড়ি রোদ্দুরে ডানা ঝাপটায়।
কালিক সভ্যতা জংলি ফুলে নিঃশ্বাষ ছুঁয়ে মহান
গণতন্ত্রের বুকে বেসুরো নাগরিক কাব্য লেখার অপেক্ষায়।।