গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

গোলাম কিবরিয়া পিনু’র কবিতা

বর্ণপরম্পরা

পূর্ণিমা রাতেও তোমার পূর্ণানন্দ হবে না
অন্ধরাতে প্রসূন করেছো নষ্ট–
স্পষ্ট মনে আছে?
পর্বতের সানুদেশে পশুগণ শিং দিয়ে মাটি খুঁড়ে
যে খেলায় মাতে–
তুমিও সে জাতে!
বীজ ছড়ানোর জন্য
বর্ণ-রঙ-অভ্যর্থনা ও প্রকৃত-রূপে জেগে উঠতে হয়
বর্ণপরিচয় থাকতে হয়!
বর্ণপরম্পরা অনুযায়ী
বরেন্দ্রভূমিও খুঁজে নিতে হয়!
শুধু কি মই দিয়ে মউচাকের কাছে গেলে হবে?

পচনশীল

আমি আমাকে পচতে দিয়েছি!
যে জায়গাটা পচে গিয়েছে–
তা ফেলে দিই।
ময়লার ঝুড়িতে রাখার পর
দুর্গন্ধ বের হয়েছে
বেশিক্ষণ রাখা যায় না,
রসুইঘরে তো নয়!
বদহজম হওয়ার পরও
সেই খাদ্য কেন তুলেছি মুখে?
পেটেভাতে খাটার পরই–
আমার ঘরে ফেরার কথা!
ঘরে না ফিরে কোথায় যাই?
নেশা তৈরির ঘরে!
সে-ঘরে কে থাকে?
নিজেকে নিজে বিলিয়ে দিই–
হতবুদ্ধি হয়ে
বিহ্বল হয়ে
জ্ঞানশূন্য হয়ে
লোভ ও লালসায়!
নিজেকে রাখি এখন কই?
পচনশীল জায়গা জুড়ে–
আরও কিছু অঙ্গ পচে যাবে!

খোলস

কৃষ্ণচূড়া যেভাবে ফুটেছে
অকপটে খোলা হাওয়ায়,
সেভাবে ফুটতে পারবে না তুমি!

কতটুকু অবারিত ও উন্মুখ হবে
তারও বিধি আছে–তারও সীমানা আছে,
তুমি তো শ্বেতজবা নও
সকল পাপড়ি খুলে ধরবে!

সাপও তার খোলস ঝরিয়ে ফেলে থাকে–
মানুষ পারে না,
মানুষের কত রকমের আচ্ছাদন আর ছদ্ম আবরণ!
নিজের কলঙ্ক–নিজের গহ্বর–নিজের খোলস
দেখাবার জন্য খোলা দরোজা রাখে না!

পোশাকী

ওমন সামাজিকতা আমি বাতিল করেছি, আমাকে
ওখানে, ও অনুষ্ঠানে পাবে না! যে লোকটি প্রশংসায়
গলে যায়, সেই অনুষ্ঠান কক্ষ থেকে বের হয়ে
কঠিন বরফে পরিণত হয়–কিছুক্ষণ পরই! এত
ধোয়াপাকলা করে টেবিলের কাপড় বিছিয়ে কী লাভ?
কিছু কিছু সামাজিকতা কি প্যারাসিটামল? খানিকটা
ব্যথা ও জ্বর কমিয়ে দেয়! কিছু কিছু অনুষ্ঠান কি
ডায়াজিপাম? কিছুটা আনন্দ উৎপাদন করে–সুখী
সুখী ভাব এনে–আচ্ছাদন তৈরি করে–কিছুক্ষণ
বিষণœতা থেকে মুক্তি দেয়? যা হোক, ও রকম
অনুষ্ঠান যতটুকু পোশাকী, ততটুকু ভালোবাসা লগ্ন
নয়, মগ্ন নয়! আমি কেন সেখানে গিয়ে নগ্ন হবো?

আঘাত

যে মানুষ আঘাত সহ্য করে টিকে থাকতে
পারে না, সে আদতে কোনো মানুষ নয়,
সা¤্রাজ্যকেও আঘাত সহ্য করে টিকে থাকতে
হয়! কত রক্তের দাগ, আঘাতের চিহ্ন,
অপমানের দাগ ও ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে
মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিজের ভূখণ্ডে!
খণ্ড খণ্ড হয়ে থাকলে, ঝোপঝাড়ের যে ইঁদুর
ঝর্নার জল খেতে আসে, সেও তোমাকে
ঠোকরাবে! নেকড়ের কথা তো বাদই দিলাম!