অসিকার রহমানের কবিতা
অনিবার্য
ভালোবাসার গাছগাছালি এখন আস্তে আস্তে
মাটি ফাটিয়ে পাতালজলে নামতে চায়—
সে কি এক অনন্ত উদ্দেশ্যহীনতায় ?
কৃষক ভুলে গেছে কোদাল কুড়ুল কাস্তে
একজোড়া বলদ আর লাঙল নিয়ে কাঁধে
এখনও কচ্চিৎ সরু আলপথে হাঁটে চাষি —
এদিকে খরা তো ওখানে মানুষ বানভাসি,
কেউ কেউ কোর্মা পোলাও কেউ বনকচু রাঁধে।
অসাম্যের অভিমানে শুকিয়ে যাচ্ছে শিকড়
অথচ গাছের মূলেই তো পবিত্র হতে হয়
জলহীন বায়ুহীন শুষ্ক জগৎ একদা অনড়
ঘটে যাবে অনিবার্য মানুষের পরাজয়।
সূর্যের কাছাকাছি
এই পৃথিবীর এমন অসুখ হবে তা কে জানতো?
অনেক আগে এক ব্যাধিতে এক দেশ বা মহাদেশ
হয়তো যেতো ছেয়ে কিন্তু এমন বিশ্বজুড়ে —
কেউ দেখেনি এপিডেমিক, মারণ মহামারী
ভীষণ রকম ছোঁয়াচে রোগ করোনা সংক্রমক
বিশল্যকরণি নেই ধন্বন্তরী কিংবা নিবারক।
ভয়ে কাঁপে মহীমণ্ডল করোনা সন্ত্রাসে
ঘুরছে পিছু অদৃশ্য ফেউ শঙ্কিত মানুষের
কে জানে কখন জড়ায় কোবিদ উনিশ ভাইরাসে
নেইকো ভয়, বিধি মেনে মানুষ এখন লকডাউনে
আমরা সবাই ভারতবাসী একটি সুরেই আছি,
নিশ্চিত কাল পৌঁছে যাবো সূর্যের কাছাকাছি ।
মাটির শাশ্বত প্রেম
গাছেদের মতো এক শ্রমজীবী কৃষক
ভুলে যায় সারা অঙ্গে ক্লেদাক্ত দাপট
ঘুমের গভীরে গড়ে নিজের শরীর।
দাবাগ্নির ভস্মে ফুটে ওঠে কুঁড়ি
সেই অঙ্কুর ছড়িয়ে পড়ে সারা মাঠে —
হাসে মাঠ, দোল খায় সোনার ফসল।
খিদের জ্বালায় জ্বলে আজন্ম জঠর,
দশদিগন্তে ছোটে বর্ণহীন ক্ষুধা —
অন্ন আজ পশ্চিমের জানলায় অদৃশ্য
অথচ এই ভাতের জন্যে
বন্ধ্যা মাটিতেই চাষীর শাশ্বত প্রেম ।
চাষীর ভালোবাসা খুঁটে খায় ত্রিকাল
চামড়া পোড়ার আঁশটে গন্ধ পেলো না কেউ
উপেক্ষার আড়ালে ছাই হচ্ছে কৃষক
তবু সভ্যতা বিকাশে ভস্মস্তূপ ফুঁড়ে
অবিরত অঙ্কুর ছুঁয়ে যাচ্ছে আকাশ….
খণ্ডিত কৃষক দাবানল তুচ্ছ করে
ক্রমশঃ নিজেকে গড়ে ক্ষয়িষ্ণু আলোয়।