উত্তমকুমার মোদকের কবিতা
জল
ঢেকে ফেলি জলজ-জীবন
নাগরিক আলোর ছায়া ভেঙে
পতনশীল সময়ের মুখ
করবে না গ্রহণ-
কলমের রূপারূপ কথা।
একটি ধান খুঁটে খুঁটে তুলবে
খনিজ আরক ; ইশারা গুচ্ছমূলে,
ওপর-ওপর হাওয়ার হিল্লোল খুঁজে যাবে
প্রাক্তন জলের সহবাস।
সব আলোর বৃত্ত পেরিয়ে
নির্জন বিপুল অন্ধকার
যে স্রোতাতুর জলের জীবন
ঠেলে দেয়—
আমি তার,গান ফেরি করি।
ইগলের ডাক
কোনো এক দূরাগত বিষন্ন ইগলের ডাক,
হানা দিয়ে যায় মরা-দুপুর ও চেতনার ফাঁক
আমি কোনো জাদুটোনা, মানি ? কেন, উচাটন ?
দুলে ওঠে খণ্ডিতমাটি, মগজে ব্যথার টনটন….
তবে-কি, আমার দুটো কেটে-দেওয়া ডানা….
ফেরানোর ছলে ওর এ-তীক্ষ্ণ হানা ?
নাকি,
মায়াজলে গুম-হয়ে, কিছু ভুলে, ডুবে ব’সে আছি ?
অন্যের জীবনে ঢুকে, রঙিন মোড়কে দুখী বাঁচি ?
ইগলটা ফিরে যায়…ডাকের তীক্ষ্ণতাটা ;
কামড়ের মতো ঘিরে থাকে…
ন্যূনতম, বলে যেও সদ্গতি,
অন্তত যে-চেনো আমাকে।
ট্রান্সমিশন
এয়ার কুলার থেকে এয়ার কন্ডিশন অভ্যস্ত
আজব সুখ
চাপ ফেলছে, তোষক থেকে ম্যাট্রেসে…
স্বস্তির সংজ্ঞা ধীরে, বদলে নিচ্ছে আরাম…
আমাদের ম্যামথ আঙুল খেলা করছে
ডিজিট্যাল নবে
পায়ের গোড়ালি, কাদা মুছে, উঠছে সোজা
আল্ট্রা মডার্ন মলে…
আর শুকনো ঘাসের হৃদয়ের ওপর মসৃণ ফ্লোর
বিজ্ঞাপন করছে, ঝকঝকে সভ্যতার মুখ
গাঢ় অন্ধকার বিক্রি হচ্ছে দামি মাংসের দরে
আর, কোথাও, একটা অচেনা পাখির ডাক
উড়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর আকাশ ফুঁড়ে…
একদিকে মিত্রশক্তি, আরদিকে অক্ষশক্তি
নিলাম ডাকছে, মহার্ঘ ঐ কান্না কিনে নিতে…
আর নিলামের নীচে, চাপা পড়ে যাচ্ছে,
শুকনো ঘাসের মতো তৃতীয়বিশ্বের চিৎকার…
আর, স্বস্তির সংজ্ঞায় কালারিং শেডস্ আনছে
নয়া-বিশ্বায়ন…