অসিকার রহমানের কবিতা
নির্বাক জন্মোৎসব
জলজ্যান্ত গোটা রাত গিলে গিলে খাওয়া
শুধু একটি নারীর জন্যে —
রাতের ভিতরে অনেক রাত
নারীর নাভিমূলে খেলা করে আর এক নারী
জলের শরীর জুড়ে আলোছায়া জলরঙ
এবং একটি রাতের জন্যে একটি নারী
খসে পড়া কোনো তারার দিকে চেয়ে
বলেছিলো একলা বকুল : ভালোবাসি —
আলোআঁধারির ক্যানভাসে প্রসারিত হাসি
সেই একলা বকুল সেই নারী
যে নারীর জন্যে একটি গোটা রাত গিলে খাওয়া
ফিরে ফিরে পাওয়া এক নির্বাক জন্মোৎসব…
বুকে এঁটে মৃত্যুশীলা
প্রেমের শরীরে জাগে বিপন্নতা –
প্রেম নিবেদনে কোনো দোষ নাই,
নিজেকে বিপন্ন করেই ভালোবাসা যায়
পাশাপাশি তাই
মৃত্যুর প্রস্তুতি রাখা ভালো।
তীব্র স্রোত ভরা নদীতেই
ভাঙন কি কেবল ঘরবাড়ি খায়?
খায় সে হৃদয়, তিলতিল জমানো আলো।
প্রেম সে তো স্রোতস্বিনী সময় যেমন
অধিকারে অধিকারে করে ফেলে নিঃস্ব,
প্রেমের জন্যে তুচ্ছ মরণ —
এ মণ্ত্র ভুলে ছলনায় বিদ্ধ বিশ্ব।
ভালোবেসে হতে পারো বজ্রাহত
বুকে এঁটে মৃত্যুশীলা, লীলা শত শত।
বেজে উঠুক পাঞ্চজন্য
মহাপাপে পৃথিবীর মাটি ক্লেদাক্ত
হিংসা ও চপলতার দর্পিত আগ্রাসনে
শূচিতা লুপ্ত প্রায়
চতুর্দিকে ঘটছে জেনোসাইড মরছে মানুষ
পরিকল্পনার পাঠে সিদ্ধহস্ত হন্তারক
মানুষ মারছে শান্তিকামী মানুষ।
সাদা চামড়ার অগ্নি অহংকারে
পুড়ে যাচ্ছে কালো চামড়ার মানুষ…
এবার সহ্যের পিঠ ঠেকছে দেয়ালে
খোঁচা খাওয়া বাঘের মতো
উঠে দাঁড়াবে যুথবদ্ধ মানুষ —
এখন জগত জুড়ে বেজে উঠুক পাঞ্চজন্য
পৌণ্ড্র আর মণিপুষ্পক
অনিবার্য শুরু মহা যুদ্ধ
কলঙ্কময় ইতিহাসের শেষে
ত্রিপাপ মুক্ত হবে ধূসরিত মানুষ।
মরি আমি জন্মান্তরে
বর্ষার প্রথম বৃষ্টিপাতে অখণ্ড আকাঙ্ক্ষা
বিছিয়ে দিয়েছি আকাশ গঙ্গায়
বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির মতো নবজন্ম হবে
মায়াবী আলোয় ভর করে ছুঁয়ে যাবে হাওয়া
স্ফটিক মেঘে জমা হবে জল কামানের কলস
মহানন্দে ডানা মেলে উড়ে যাবে ইচ্ছা
ভাসতে ভাসতে এক সময় সাত সমুদ্র পেরিয়ে
নেমে যাবে মহাসাগরের অতল সুরঙ্গে
মানুষের ক্ষয়িষ্ণু আকাঙ্ক্ষার বাসভূমি
ঘটেই চলেছে যেথা আত্মার পরাজয়
অনিবার্য প্রার্থনার বিরহে
বারবার মরি আমি জন্মান্তরে…..