স্বপন শর্মার কবিতা

স্বপন শর্মার কবিতা

অর্জুন উবাচ-১৩

সৌহার্দ্যস্থাপনে পর্যটক পথ থেমে যায় অশ্বখুরের ধ্বনিতে । স্তম্ভিত চোখ ঘোড়ার পিঠে দেখে স্নিগ্ধ আগুন। এক ইপ্সিতা আগুনের সামনে দূরাগত ঈপ্সিত।
পরিচয় পর্ব শেষে এক অমোঘ মোহের কাছে দাসখত । সব অকামিক শর্ত নিঃশর্তে মেনে মণিপুরে ডানা মেলে ওড়ে তিনটি প্রেমার্ত বছর ।কিন্তু রক্তচক্ষু জিজ্ঞাসা তর্জনি উঁচিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে বলে, তৃতীয়-পান্ডব তবে প্রবৃত্তির দাস ? কৃষ্ণা ও উলুপীর অসাক্ষাতে এক শিকারমনস্ক কামনা ? হে নির্লজ্জ বহুগামী, যে প্রেম আর তার থেকে অংকুরিত কুঁড়ি ইন্দ্রপ্রস্থে নিয়ে ফেরা অসম্ভব , কেন দুটি ভবিষ্যৎ জ্বালালে লকলকে আগুনে? তোমার স্তব্ধ সময়ের ভোগের সামগ্রীর দৃপ্ত উচ্চারণঃ চিত্রাঙ্গদার স্বামী এক ও অদ্বিতীয় অর্জুন, কিন্তু বহুগামী স্বামীর প্রেয়সি মাত্র তিনি। এই শুনে শুরু হয়নি হৃদয়ের অন্তহীন দাহ ?

প্রশ্নে প্রশ্নে বিদ্ধ কি তবে সেই সারস্বত সুশীল, নিজস্ব প্রজ্ঞায় অদ্বিতীয়, কিন্তু অসংযমী লাম্পট্যে অবাধ ও স্বাধীন ? পটুত্ব দায়হীন যথেচ্ছাচারে ? শরীরের সুখের জন্য নির্দ্বিধায় বেপথু এক মোষ ডুবে থাকে গর্হিত গোপনে ”কর্দমাক্ত শান্তির কবলে ” ? তবে কি অস্ত্রবিদ্যায় অদ্বিতীয় মন অসংযমী ঘুড়ি ,লাটাই অন্যের হাতে ? এওকি কি দেবশক্তির প্রভাব ?

শ্মশানের কবিতা-৩৩

তোমাদের সামনে নত অনাথ প্রণাম
মননে মথিত অদৃশ্য কায়া ও মায়া
আবাহনে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করি
মহাকাল
আকাশের কোণে কোণে
বাতাসের সঙ্গে মিশে
তোমাদের সঙ্গে আমার আসল আমির মধ্যে ঢুকে যাই ।

তোমাদের সামনে নত অনাথ প্রণাম
বাক্যকে দোহন করে পরিবেশন দুধ
তোমাদের তৃপ্তির অদৃশ্য হাত থাক
মাথার ওপর ।

এ অধম সাম বা অসাম কিছুই না
অনাথ প্রণামের আবাহন
তোমাদের মাধ্যমে অন্তরে আদিত্যকে পেতে ।

বয়সি স্মৃতির শোক

হৃদয়ের নীলে আজও অষ্টাদশী চাঁদ
খরাজর্জরিত পথে শ্রাবণের আশা
জীবনের গান তাই নীরব আবাদ
স্মৃতির শোকের মধ্যে জীবন পিপাসা ।

ঝুমঝুম হেঁটে যায় রুপসি অতীত
লাজুক একটি স্রোত মনে বয়ে যায়
অজান্তেই গড়ে দেখি কাহিনির ভিত
হৃদয়ের নীলে চাঁদ প্রাণ ফিরে পায়।

বিষাদ বিস্তার উৎস স্নিগ্ধ সে আগুন
মৃত্যুহীন বাক সঙ্গে অনন্তের সুর
স্মৃতির সে চাঁদ আজও প্রতীকী ফাগুন
অভাবী আলোর কান্না ফোটে কাম্য ভোর ।

ভারাক্রান্ত স্মৃতি খোঁজে সে চাঁদের চোখ
মুহূর্তের চিতা পাশে বাঙময় শোক ।