জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা

জ্যোতি পোদ্দারের কবিতা

গারো পাহাড় সিরিজ

একদিন বহুদুরে জল জমি জঙ্গলে ঘুরেছি।

পেছনে রেখে গেছি সাহেব
আর সাহেবের ব্যবহৃত টুপি
আর সিগারেটের পাইপ
আর ঠোঁঠে কোণে ঝুলে থাকা স্থীর বিশ্বাসের মনোভঙ্গি।

তবু জঙ্গল আমাকে নেইনি
জল পাশ কেটে গেছে
জমি দেহ দিলেও সেই দেহে সপ্রাণতা ছিল না।

সকল সঙ্গম সপ্রাণ সঙ্গম নয়।
দখল স্বত্ত্বের নারী দেহ খুললেও মন খুলে না।

চিরকালিন আমি’র সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
আমার আমি নিছক আমার সময়ের।

আমার রোদ ফর্সা আর গোলাকার
আর মেঘজমাট বৃষ্টি দিয়ে এমব্রয়ডারি করা।

রোদ হলে শুধু রোদ পাই না — বৃষ্টিও পাই।
বৃষ্টির জল আমার পা ভিজিয়েে দেয়।
শরীরে জাপটে থাকে
যেমন তুমি ভয়ে আমাকে চোখবন্ধ করে জড়িয়ে ধরো।

ঝুম ধারাপাত বৃষ্টি হলেও ঠিক ঠিক উঠানভরা রোদ থাকে।
সিঁড়িতে তেছরা হয়ে পড়ে থাকে রোদ।
অথবা বিড়ালে মতো জানালা গলিয়ে সাদা ফর্সা রোদ
বিছানায় চুপ করে শুয়ে থাকে।

আমি আমার মতো আমার সময়ের।
চিরকালিন আমি’র সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।


এই যে পাখিটা উড়িয়ে দিলাম
মাথার উপর আঁকা আকাশে
তাকে কিছুক্ষণ আগে এঁকেছি জলরঙে।

এখনো জন্মগন্ধ রয়ে গেছে শরীরে।
এখনো ছোপছোপ রক্ত
অস্পষ্ট চোখ
আর হা করা মুখের গহ্বরে গরম ভাপ উঠা উত্তাপ।

চোখের কোনে পিচুটি ঘষতে ঘষতে তিনি
উড়ে বসলেন পাতার ছাউনি ঘেরা
বাঁকানো গাছের ডালে।

এই ডাল তোমার হাতের প্রসারিত হাত
নির্ভরতার আশ্রয়।
পাখিটা চিনলেও আমি এখনো উদ্বাস্ত।


আমার ছোট্ট ছেলে চমৎকার অরন্য এঁকেছে।
গভীর ঘন জঙ্গল। ইয়া বড় আকাশ ছোঁয়া বৃক্ষের
কোল ঘেষে ঘেষে যতটুকু রোদ বনে
পড়েছে তার চেয়ে বেশি ছোপ ছোপ অন্ধকার
গাছের তলায় আর বাঁশের আড়ায়।

ক্যানভাসের এপাশ ওপাশ চেষ্টা করেও
বনে ঢুকতে পারলাম না।
যে দিকেই ঢুকতে চাই সেদিক থেকেই
সোনাঝরা এ্যাকাশিয়া ফুল আমার পথ আগলে দাঁড়ায়।

মায়াবিনী সোনাঝরা এ্যাকাশিয়া ফুল
আমাকে মায়ায় ভোলায়
কিন্তু ধিঙ্গি পাড়াটুকানির
আঁচলে কোন জলজ ছায়া নেই।

আকাশ ছুঁলেও এ্যাকাশির কোন আঁচল নেই।


এই বনে হেঁটেছি অনেক
একটাও মহুয়া পাইনি

আঁজলা ভরে তুলতে ছেয়েছি
পাহাড়ি সোঁতার শীতল জল।

ঘর্মাক্ত মুখের তাপ নিয়ে
হেঁটেছি অনেক পথ
কোথাও পাহাড়ি সোঁতা পাইনি।

এ বন আমার না—আমীন স’ মিলের।