হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

একটা সহজ রাস্তা

জানলায় কান পাততেই একটা রাস্তা উঠে এলো
কাছে যেতে দেখি সাদা ছোপে ছাতা ফুটে আছে

দেখলাম স্বজন বঞ্চিত রাস্তা চোখের জল মুছছে
ভারি ধুলো পায়ের হাতে একটুও নড়ল না পর্যন্ত

এত সহজ একটা রাস্তা
গ্রামের ভেতর দিয়ে শহরে উঠেছে
চেনা দূরের কথা, নাম শোনেনি পর্যন্ত

বুঝতে পারি দিনে রাতে চলাচলটাও কত জরুরি ।

আলোহাতের তর্জনীর সামনে

আলোহাতের পাশ দিয়ে যেসব উঠোন দেখা যায়
ঘড়িঘরের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই

বেশ কয়েক রাত নক্ষত্রের পাশে
যেসব মুখ খুব কোলাহল করেছিল
উঠোনের এক সমুদ্র আলোয়
সেসব মুখ পুরোপুরি ঝাপসা

এমন উঠোনে পা রাখার
উপযোগী হাড়ের ব্যাখ্যা কোনো সিলেবাসে নেই
হঠাৎ ঝড়ের মুখ থেকে উঠে আসা এমন কিছু হাড়
যাদের শরীরের সঙ্গে
উঠোনের কিছু রেখার মিল খুঁজে পেয়ে
কিছু পা এইমাত্র
আলোহাতের তর্জনীর সামনে এসে পড়ল ।

পথের মতো গভীর হয়ে

পথের মতো গভীর হয়ে
যারা একের পর এক ডুবে যাচ্ছিলো
পাথরের ঠাণ্ডা হাতের তলদেশে
আমি তাদের একজনকে চিনি
যে তার প্রাণান্তকর চেষ্টায়
দাহকার্যের কাঠকয়লায় দাগিয়ে দিয়েছিল
পৃথিবীর অধিকারের সীমা

দৈর্ঘ্য প্রস্থের অগভীরতায়
সে তার উপস্থিতি জানান দিতে না পারলেও
হঠাৎ মারণ ঝড়ের দাপটে ঝুঁকে পড়বে পৃথিবীর একদিক
ঝুঁকে পড়া ডাল থেকে আম পাড়ার মতো করে
অনেকেই কুড়িয়ে নেবে বেশ কিছু লোভনীয় নদী

শুকিয়ে যাওয়া দেহের চামড়া
বালিঝড়ের মতো
উড়তে উড়তে ঢেকে দেবে পৃথিবীর সমস্ত মাটি ।