চ‍্যাটার্জী অমলের কবিতা

চ‍্যাটার্জী অমলের কবিতা

বাবু

বহুদিন পর লালিত‍্যময় নিটোল বয়ানে
নতুন অতিথি হিসেবে একলা হেঁটে এলো
ছোট্ট একটা ডাক, “বাবু…”
প্রসন্ন বাতাসের প্রবল ডানায় ভর করে যেন আস্ত একটা গোলাপ
ভেসে এলো মনের কথা বলতে। বস্তুত আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে দেখি
তার রূপকাঠামোর ছটা, তুমি যে আবার ওই নামে ডাকতে পারো
ভাবনার জটিল বাক্সে ছিল না অপেক্ষমান কোন স্বপ্ন ।

অভিমানের সহযাত্রী হয়ে পরিচিতির শেকড়ে দূ্রত্ব বেড়েছে বহুকাল।
অতীতের দখলে যত বেহিসেবি ক্ষত যত টুকরো টাকরা স্মৃতি সার বেঁধে
ছাইরঙা দৃশ্য আঁকে হৃদয়ের কোনায় কোনায়। তবুও হাড় জিরজিরে
দিনের মতো অবিরাম ভাঙতে ভাঙতেও ভালোবাসি বলেই ডুবে থাকি তোমাতে ।

আমার প্রিয় কবিতার মতো তোমার মাঝে চেয়েছিলাম দিব‍্য উন্মাদের প্রেম,
পরিবর্তে পর্বে পর্বে ছুঁয়ে গ‍্যাছ গাঢ় অনুভূতির বিষন্নতার দুখ:রাত,
তুমিহীনা নিবিড় মমতা মাড়াতে মাড়াতে বারবার রেখে গ‍্যাছ একবুক জ্বালা।

নির্জনে আজও হৃদয়ের খাঁচা ভরাট করার অপেক্ষায় কত সুষম স্বপ্ন ডানা ঝাপটায় ।
নিগূঢ় সত‍্যে বুকের অববাহিকায় ভালোবাসার চাদর উড়িয়ে দ‍্যাখো,
অরুদ্ধ রাতের নৈ:শব্দ‍্য ভেঙেচুরে আবার ঠিক আসবে গোলাপি রোদ্দুর ।
নিরঙ্কুশ ভালো বাসাতেই বেঁচে থাকুক বাস্তবের ভালোবাসা ।।

যেদিন আমি থাকবো না

হঠাৎ এক বিষাদ রাঙা ভোরে যখন তুমি শুনবে
মৃত্যুর গজদাঁতের প্রবল দংশনে আমি রংহীন ঝরে
যাওয়া ফুল, শ্মশানের নীল চিতায় দাউদাউ জ্বলছে
আমার শরীর ।

জানি তখন তোমার দুধ সাদা বুকের গভীর থেকে গভীরে
আতসবাজির মতো ফাটবে খবরটা, চোখের সামনে
অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসবে নিকষ কালো
অন্ধকার । মনের বিস্তীর্ণ অববাহিকা জুড়ে উথালপাতাল
ঝড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে খসে পড়বে অতীত স্মরণে শরীরহীন
স্মৃতি । কষ্টের করাতে টুকরো টুকরো হয়ে আকণ্ঠ
যন্ত্রণায় চোখের গিরিখাত বেয়ে নামবে তপ্ত শোকের
অনিয়ন্ত্রিত মিছিল । বুক চাপড়ানো বোবা আর্তনাদের
হাহাকারের শ্মশানে দাঁড়িয়ে চিন্তার শিকড়বাকড় ছিঁড়ে
নামবে নিঃসঙ্গ হওয়া এতদিনের মনের যত কথা।

হ্যাঁ,সেদিন আমি থাকবো না ঠিকই ,
হয়তোবা ডিজিটাল বারুদে পুড়ে পৃথবীর অপার
খেয়াঘাটে বদলে যাবে অনেক কিছুই ।কালের যাত্রার
ধুলোয় খয়েরি স্বপ্নের বিষাদ স্মৃতি নিয়ে শিরোনামহীন
পড়ে থাকবে পৃথিবীর অপার মাঠঘাট । কিন্তু আমার
পাগল আবেগের থলি উপুড় করা ভালোবাসা খুব
সংগোপনে তোমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে নিভাঁজে ছাপ
রেখে যাবে চিরকাল, ছাপ রেখে যাবে তোমার রক্তরসের
প্রতিটি কণায় অণুকণায় , ঠিক যেভাবে প্রতিসরণের পথ
বেয়ে হতে চেয়েছিলাম তোমার আত্মার প্রতিবিম্ব।