হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

আলো

বাড়ি তোমার আকাশ ছুঁলেও
তারও ওপরে
দেউড়িকে হিমালয় বানালেও
তারও ওপরে
একটা আলো থাকে

প্রয়োজনের অতিরিক্ত হাত পা নাড়ালে
আলো জ্বলে যাবে ।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে

এখনও আমার কাছে রোজ
ওরা কিছু না কিছু চায়
ওরা তাকিয়ে থাকে
মোড় থেকে রাস্তার যতদূর পর্যন্ত আমাকে দেখা যায়

আরও অনেক দিন পর্যন্ত
এই বালিদেশে বৃষ্টি হবে
জল গড়াবে না জেনেও
বৃষ্টিরা হৈ হৈ করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসবে মাটিতে

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
এখনও ছবি আঁকা হবে
উড়ে যাবে জেনেও অনেকে
হাওয়ার চোখে চোখ রেখে খুলে দেবে জামার বোতাম ।

মাটির সোঁদা গন্ধ

মেঘের মতো চেহারায় বেশ কয়েকজন
আমাদের দেশের দুয়ারে পা রেখেছিল
তাদের চিনতো এমন‌ কিছু গাছ
ভোরের হাওয়ায় বাজিয়েছিল বাঁশি

সাপের গর্তের মতো গোপন গুহার বাসিন্দারা
গাছের কথা
ক্লাস চলাকালীন সময়ে বাধ্য ছাত্রের মতো কবে শুনেছে

মেঘ উড়ে গেছে কবে
পাহাড় প্রদেশে যেটুকু বৃষ্টি হয়েছিল
তার একটা ঠাণ্ডা আভাস
যৌবনের স্বপ্নের মতো ভেসে এসেছিল

পুরো একবার মাথা ঘোরালে
যতদূর চোখ যায় কোথাও নেই মেঘেদের হৈ চৈ
গাছেদের পাতায়
ফোঁটা জলের উচ্ছ্বাসের উপস্থিতির কারণে
আস্তে আস্তে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে তারাও

এখন শুধু বন্দরে জাহাজ ভেড়ার অপেক্ষা
তার আগে উল্টে যাওয়া বইয়ের পাতার মতো
খুব দ্রুত নিচে চলে যাচ্ছে মাটির সোঁদা গন্ধ ।