স্বপ্নীল ফিরোজের কবিতা
মৃগনাভি
তুমি কবির বুকে বিঁধিয়েছ যে শর, তার ধারালো
মুখে কালচে নীল রক্ত জমে আছে। সেখানে একটি
মৃগনাভি হরিণ লুকিয়ে আছে। তার গন্ধে তুমি পাগল
হবে শিকারী। কিন্তু কখনোই তুমি তাকে পাবে না।
শিল্পী
একদিন এক শিল্পী একটি ছবি এঁকেছিল। ছবিটি দারুণ
জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। ছবিটিকে নিজের করে পাবার
জন্যে সারা পৃথিবীতে মানুষ নিজেরা নিজেদের মধ্যে
অবিরাম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন সেই হাড্ডিসার শিল্পীর
কথা সবাই ভুলে গেছে।
কোকনবন্দী
ভেবে দেখো,কোকনবন্দী একটি রেশমপোকার
যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু না হলে তোমাকে কেউ উপহার
দিতো না কবিতার রেশমি শাড়ি। মথে কাটা গুটি
রেশমচাষীও দিতো অবজ্ঞায় ফেলে।
ইভটিজার
তুমি যদি আমার কবিতাকে আঘাত দিয়ে ভেঙে ফেলো
তবে সে উলঙ্গ-ইভটিজার হয়ে উঠবে। তখন কোন রূপক
নয় সরাসরি তোমার চোখে চোখ রেখে বলে উঠবে,
এই মেয়ে শোনো-
আমি তোমাকে চাই, অথবা…..
বিবর্তন
তুমি দেখো, একদিন ঘোড়াদের রঙিন ডানার লোভে
জেব্রাগুলো তাদের কালোদাগ পবিত্র জলে ধুয়ে নিবে।
আর সিংহগুলো তাদের কেশর কেটে মিউমিউ করে
তোমার পায়ে পায়ে ঘুরবে। তুমি টেরও পাবে না।
অতিপ্রাকৃত
ক্ষুধিত পাষাণ থেকে তুলার মাশুল আদায়কারী কীভাবে
মুক্ত হয়েছিল সে গল্প আমাদের শোনা হয়নি।আর সেকারণেই
প্রথম বর্ষায় আমি যে নদীতে ডুব দিয়ে অতিপ্রাকৃত ঢোলের
বাদ্য শুনেছিলাম সেই সাহেবখালি নদীতেই আমার লাশ উপুড়
হয়ে ভেসে যাচ্ছে আজ।