রবিউল মাশরাফীর কবিতা
দিনের শেষে
বৃদ্ধ মানে কি, বিরাট বাড়ির ছোট্ট কুঠরে থাকা?
তুচ্ছতা ভয়ে সকলের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা?
বৃদ্ধ মানে কি নিজের প্রতিও ভীষণ আত্মভোলা?
মলিন কাপড়ে আধেক জড়ানো আধেক শরীর খোলা?
কথা বলবার কেউ নেই পাশে ব্যস্ত যে যার কাজে,
হাজার ব্যথার জীবন সাজানো কষ্টের ভাঁজে ভাঁজে।
বৃদ্ধ মানে কি, সময় কাটানো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে?
প্রজন্মদের গঞ্জনা ভয় বেড়াবে তাদের তেড়ে?
বৃদ্ধ মানে কি বলতে না পেরে চুপ করে থেকে কাদা?
চারদেয়ালের দম আটকানো জীবন কাষ্ঠে বাঁধা?
তার জীবনের গল্প শোনার মানুষ রবে না কোনো,
যার কথাগুলো বুঝবার মত থাকবেনা একজনও।
বৃদ্ধ মানে কি, স্বজনের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়ে বাঁচা?
লজ্জা ব্যথায় ছটফট করে ভাঙবে বুকের খাঁচা?
বৃদ্ধ মানেতো একসময়ের পূর্ণ আলোকবাতি
জীবনচক্রে তাদের জীবনে নেমেছে অদীপ রাতি
মৃত্যুপথের সেই বাবা-মাকে, যে করেছে অবহেলা
তার জীবনেও আসবে এমন, ভীষণ কষ্ট বেলা।
বৃদ্ধ মানেতো দেহ-মন-প্রাণ অবুঝ শিশুর মতো
শিশুর মতোই কোলে কোরে রাখা সাধ্যে কুলায় যত
বৃদ্ধ মানেতো থাকার বাসনা প্রাণ পাখিদের সাথে
মাথায় বুলানো স্নেহের আদর থরথর দুই হাতে
নিজের বসতি অগ্নির মতো পুড়েই চলেছে ক্রমে
তাই বুঝি এরা বাঁচার তাগিদে আসে বৃদ্ধাশ্রমে?
মায়াবী জ্যোৎস্নার রাত
নৈসর্গিক গাম্ভির্যের নীলাভ আকাশ
পৃথিবী গভীর ঘুমে জেগে আছে চাঁদ
আকাশ সমুদ্রজুড়ে নীলের জোয়ার
গুলশান লেকের পাড়ে, এপারে ওপারে
সারি সারি অট্টালিকা; সোডিয়াম বাতি
জীবনের অনিবার্য প্রয়োজন সেরে
কেউ কেউ মধ্যরাতে ফিরে আসে বাড়ি
তরুনীরা মুঠো মুঠো জোছনাধরা খেলে
ল্যাম্পপোস্টের আলো নামে জলের উপর
বাতাসের ঢেউ লেগে দুলে ওঠে জল
জলের তলের ছবি নড়ে চড়ে যেন
শুয়ে থাকা মস্ত বড়ো অজগর সাপ।
নরম জ্যোৎস্নার রাত শীত শীত হাওয়া
ওপারে ঝোপের নিচে জলের কিনারে
আবছায়া কী যেন হাটে, পিশাচের মতো
পাতার খসখস শব্দ, ইঁদুরের খেলা
মাঝে মাঝে কেন যেন শিহরিয়া উঠি!
কী জানি শরীর ঘেঁষে বসে আছে কী না
কোহেকাফ পাহাড়ের আগুনের জিন?
এমন গভীর রাতে ভয় ধরে মনে
মেয়েরা রমণি হ’লে ভয় ভেঙে যায়
আমিও সে ভয় ভাঙা রমণীর মতো
ভয়ের কপাট খুলে মেঘ ওড়া দেখি
আকাশের নীলে দেখি মেঘের মানচিত্র
জলের আয়নায় ভাসা পূর্ণিমার চাঁদ,
চাঁদের উনুনে জ্বলা হেমন্ত আকাশ!
স্রষ্টার নিমিত্তে বলি, শুকরিয়া শুকরিয়া
দুই চোখে জমে ওঠে সুখের তরল।