মিলন ইমদাদুলের কবিতা

মিলন ইমদাদুলের কবিতা

রোদেলা সকাল

আমার অন্তরজুড়ে ফুটফুটে যে শিশুটি বসে আছে ,
সে আমার মেয়ে।
আমার ধ্যানজ্ঞান সর্বসত্ত্বায় যার অস্তিত্ব বিরাজমান।
আমি ওকে বাবা বলেই ডাকি।
জীবনের একাকীত্বময় সময়ে যখন কিছুই
ভাবতে পারছিলাম না—
ঠিক সেই সময় বিধাতা পাঠিয়েছেন ওকে
রৌদ্রময় উপহারে।
রৌদ্রের মতো জ্বলজ্বল করে ওর প্রতিটি অঙ্গ নাক ও মুখ।
ওর চোখ-দুটি যেন একেকটি রৌদ্রময় কণা—
আমি ওর নাম দিয়েছি রোদেলা সকাল।

পুরুষ

অভিলাষী শরীর থেকে স্নিগ্ধজল ঝরিয়ে’ই ভুলে যাই— আমিও পুরুষ!
ভুলে যাই এ দেহের কতোরকম কতো মায়া।
অথচ এই আমিই যখন পূর্ণ উদ্দীপনায় ফিরে আসি-
নারীর প্রেমে,
কামার্ত শরীরের ভাঁজে ভেসে যাই অন্তীম শহরে ,
বাসনার ঠোঁট ও চোখের চাহনিতে আমিই পুরুষ!
রক্তে মাংসে গড়া মাংসাশী এক পুরুষ!
আমার বুকজুড়ে বাসা বাঁধে ক্ষুধা নিবারণের
অঙ্গিকার।
আমার চোখ ও ঠোঁট কোনো বাঁধা মানে না,
হাজার বছরের তৃষ্ণার্ত এ হৃদয় –
খুঁজে ফিরি বারংবার নারীর প্রেম সাধনায়।

মৃত্যুপাঠ

আমার মৃত্যুর পর তোমরা আমাকে কবর দিও
যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়—
তবে আমার চোখদুটি’কে যেন নয়!
এ চোখে আমি হাজার বছর বাঁচতে চাই…


মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পড়তে পড়তে —
কখন যে নিজেই ঘুমিয়ে পড়বো
অন্তীম যাত্রার পথে ,
এ সত্য জানার ক্ষমতা নিজেরও নেই …


মৃত্যুকে ডান হাতে নিয়ে চলছি দিবারাত্রি —
জীবন নদীর তীরে,
শৈশব স্মৃতিরা যেখানে আকঁড়ে ধরে…


মৃত্যুস্বাদ যে কতো কষ্টের —
মরেছেন যিনি তিনিই ভালো জানেন…


মানুষ মরে গেলে পৃথিবীতে বেঁচে থাকে ছায়া—
একমুঠো তৃষ্ণার্ত রৌদ্দুর বহুমুখী মায়া…