গোলাম রসুলের কবিতা
সন্ধ্যাতারা পার হয়ে
তখনও একটা লেখা মেঘ হয়ে ঝরে পড়েছিল
আকাশ ধরে রাখা আয়না
হাত দেখা যাচ্ছে
একফোঁটা শুকনো কালি
সমুদ্রের দোয়াত
মানুষের ভাগ্য যেমন হয়
ট্রেন থেকে নেমে ফিরছিলে সামান্য দু এক মাইল আকাশ
সন্ধ্যা তারা পার হয়ে তোমার বাড়ি
দেশভাগের সময় ভাগ করা হয়নি মেঘ
আমি জিজ্ঞেস করলাম কারা লিখেছিল এত দেহ রেখা
পবিত্র শূন্যের পাখনা
সূচনা করছে কোনো এক মিনারের
তুমি পাথর থেকে তৃষ্ণা মিটিয়েছিলে
তুমি ফিরছিলে আকাশের ল্যান্ডমার্ক থেকে
তোমাকে দেখতে ঠিক যেমন একটি আমাদের আধুনিক শহর
নদী তীরে হাট
কয়লা আর শস্য বোঝাই মেঘ এখানে আমাদের ছেড়ে দিয়ে গেছে
আমরা চিরদিনের জন্য মরে যাবো
তবুও আকাশ
যা জানি না কিছু
সেখানেও পাথরের তৈরি একটি বেসিনের জলের ছেনালির নিচে দাঁড়িয়ে
ছেড়ে দিই হাত
ফিরে আসে ছিঁড়ে নিয়ে অনেক কিছু
ভাঁড়ার ঘরের গন্ধ
আর আড়ার ওপর মহাকালের বই
আমাদের বংশ মর্যাদার সৌন্দর্য
বন্ধুত্বের মূর্তি
ফাঁকা মাঠের জাঙাল যেভাবে আলিঙ্গন করে সুদূরের সেই মেঘ
আমরা গোড়ালি পর্যন্ত হেঁটে যাই
দেখি কিভাবে আমাদের জীবন একাকার হয়ে গেছে
সকলে মিলে আমারা হয়ে উঠেছি একজন
আমাদের কিছু নেই
কুয়াশাও শুকনো
আর শরীরের সেই ফাঁপা শব্দের প্রতিধ্বনি
সেখানেও একাকিত্বের চমক
নদী তীরে হাট
অতীতের একটি স্তম্ভের মতো ভেসে থাকে
মাটির আকাশে