অশোক অধিকারী’র কবিতা

অশোক অধিকারী’র কবিতা

খনন

গভীরতা তাহলে এত রমনীয়
দুশো ছ’টা হাড়ের ভেতর আলো জ্বেলে
খুঁজে আনে আনন্দভৈরবী
নাচঘরে অসহ্য স্নেহ তাপসের গীত-সংগীত
বিপ্রতীপ ভালোবাসায় জায়মান সন্দেহ
তাকে মমি হতে নিষেধ করে
মৃতদের ভাস্কর্য অপ্রতিম সময়ের চারুপাঠ

শোবার ঘর

নিঃশ্বাসের সঙ্গে স্বাবলম্বী সন্দেহ সেদিন
বুকের ওপর তাক করেছিল প্রগলভতা
পায়ের ঘুঙুরে তার ষোড়শ মুদ্রার চাপল্য
এই ঘরে মদ্যপান নিয়ন্ত্রিত চাপা
শোষনের ঘামগন্ধ অন্ধকারে সারল্য অতিক্রম
করে যায় চুম্বনের স্বাদ পরস্মৈপদী ঘৃনা
আমরা কৃপণ উৎসবে যুগল ছিলাম কিনা

আত্মজীবনী

তুলসীগাছের হাওয়ায় একটা গন্ধ আসে
গন্তব্যের অনেক আগেই স্টেশন পেয়ে যাই
নামার সময় প্রপিতামহের ছায়াছবি ভাসে
গণ্ডুষে পেরিয়ে যাই সর্বজনীন চড়াই-উৎরাই

আগুনের জন্যে এ জীবন কুশলতা ভরপুর
আয়োজনে জৈব ক্ষুধা শ্রান্তির তৃষিত দুপুর
হাত রাখি মাটিতে মাথাভর্তি নিয়ম কৌশল
সব কিছু খুলে দিয়ে প্রার্থনায় গৃহীত বল্কল

ক্যালেন্ডার

তারিখ পাল্টে তার বিবাহ দিবস খুঁজি
আনন্দী রঙের কাপড় সবটুকু গন্ধ খুলে নেয়
বস্ত্রখণ্ড আড়াল করে নিজস্বী শরীর
মাড়িয়ে যায় অলীক যাপন
সংখ্যা বেড়ে যায় সম্ভবা নারীর পাশে
মন্ত্র উচ্চারণের ধার্মিক বক অনবরত
মেপে যায় সহবাসের অক্সিজেন
আমরা কোনোদিন গনৎকার ছিলাম না
ক্যালেন্ডারে লেখা থাকেনা মৃত্যু তারিখ
শুধু কালা ওষুধ পালনের সন্ধ্যা নামে
সংখ্যার মই হয়ে ঝুলতে থাকে উপবাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *