অমিতাব মিত্রের কবিতা
অবয়বহীন
বিনয়ের সাথে মৃত্যুকে ডাকি বারবার
দরজা হাট করে খুলে জানলায় খুঁজি আকাশ
ছোঁয়া যায় না বলেই হয়তো স্বপ্ন অবয়বহীন ।
অনুমতি না নিয়েই সে পাল্টে ফেলে রং
পাল্টে ফেলে পরিচয়
বসন্ত আসবো আসবো করলেই পরিযায়ী হয়ে ফিরে যায় নীড়ে ,
সদাহাস্যময় মৃত্যু বলে…
কানামাছি খেলায় নিতান্তই নাদান আমি ।
টিলা ছুঁয়ে ভস্ম হতে চেয়েছি বারবার
ডুবে মরতে চেয়েছি মোহনায়
আবার একচুমুতে পান করতে চেয়েছি সঞ্জীবনী ,
ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে মৃত্যু প্রতিবার বলেছে …
মানসিক সোহাগে অভ্যস্ত হও পথিক
অনুভবে উপভোগ করো উষ্ণতা
স্পর্শহীন হলে হয়তো প্রেমও অবয়বহীন হয়ে যায় ।
যে কবিতাগুলো
মোমের মতো গা থেকে পিছলে যায় জোছনা
হাস্নুহানার গন্ধে মাতাল হয়ে যায় কলম
এলোচুলে ঢাকা চিবুকে তিল ছুঁয়ে অনাবিল আস্কারা ।
নিশিডাকা রাতে নিশিপদ্ম হয়ে খিলখিল করে ওঠে মেঘবতী
ক্রমশ আকুল আলোময় হয়ে ওঠে অবয়ব
সৌভাগ্যে কলম উপুড় করে দিতে চায় মুগ্ধতা
আর অপ্রাপ্তি মাখা কিছু অতৃপ্তি
যে কবিতাগুলো অন্ধকারে বসে লিখি
সবচেয়ে রূপবতী হয় তারাই ।
বিক্রি
কবিতা বিক্রি করতে চাই
চাইলে পাইকারি কিম্বা খুচরো
বস্তা বস্তা আভিমানে ডাঁই হয়ে থাকে অন্ধকার ,
সাফসুতরো করে আবার ছিমছাম করতে চাই ঘর
সাবেক আসবাব পাল্টে হালফ্যাশানে সাজাতে চাই শয়নকক্ষ ।
একসাথে সব নিলে ফাউ পেতে পারো কলমটা
বড্ড বেয়াদব যে সে
ফাই-ফরমাশ খাটতে হলেই তার যতো অভিযোগ আর
অপ্রাপ্তির ফিরিস্তি ।
যে জানলাটার পাশে বসে কাটিয়ে দিতাম সারাদিন
বড্ড পুরোনো হয়ে গেছে বলে তুলে দিয়েছি দেওয়াল
আলোবাতাসহীন ঘরে শুধু খোলা আছে দরজাটাই
ভাবছি তেমন খরিদ্দার পেলে বেচে দেবো পুরো বসতটাই ।
তারপর আবার গিয়ে দাঁড়াবো খোলা আকাশের নীচে
হেমন্তের শিশির জমা হবে ভিক্ষাপাত্রে
ঝুমুর গানে মাতাল করবে ঝিঁ ঝিঁ
আলোর আল্পনা আঁকবে জোনাক
কবিতা সহ সবটাই বিক্রি করতে চাই
নেবে নাকি কেউ ভালোবেসে ?